কৃষি খাতে বহুমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার দরকার
কৃষি খাতের সমস্যাগুলো প্রকৃতই অনেক জটিল। বিএনপি শুরুতেই যে সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে, এটা শুভ লক্ষণ। কৃষকেরা ন্যায্য দামে উৎপাদন উপকরণ চায়, আবার উৎপাদিত ফসলেরও ন্যায্য মূল্য প্রয়োজন তাদের। সংখ্যাগরিষ্ঠ চাষি এখন ভূমিহীন বর্গাচাষি। তাদের জমিতে মালিকানা নেই, বীজের ওপর মালিকানা নেই; সার, কীটনাশক, সেচব্যবস্থা ইত্যাদির ওপরই নিয়ন্ত্রণ নেই। আছে স্রেফ শ্রম।
জমির মালিকেরা এখন সামান্যই চাষাবাদে আছেন। অনেকে তাঁরা শহরে থাকেন। গ্রামে যেহেতু বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তেমন নেই, সে কারণে দরিদ্র শ্রমজীবীরা বর্গা নিয়ে জমি আবাদ করেন। সে-ই আবাদ আবার অতিরিক্ত পরিমাণে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে নীরব এক স্বাস্থ্যঝুঁকির চেহারা নিচ্ছে।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যত রোগী আসছেন, তাঁদের তিন ভাগের এক ভাগই দেখা যাচ্ছে পেশায় কৃষক। সংখ্যাটা ঊর্ধ্বমুখীও বটে। নিয়ন্ত্রণহীন শিল্পবর্জে৵র পার্শ্বফল হিসেবে সিসা, দস্তা, ক্রোমিয়াম ও আর্সেনিকে বাংলার মাটি আজ বিষাক্ত।
উপরন্তু আবাদের আগে কৃষক জানেন না, তাঁর আসন্ন পণ্যের চাহিদা কী চেহারা নেবে। চাহিদা ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত না থাকার কারণেই আলু–পেঁয়াজসহ নানা পণ্যে অধিক ফসল ফলিয়ে দু–এক বছর পরপর উৎপাদকেরা লোকসানে পড়েন। নির্ভরযোগ্য কৃষিতথ্য ব্যাংক না থাকায় ঘাটতি কিংবা উদ্বৃত্ত মোকাবিলায় সরকারও সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারে না।
Voice24 Admin 







