০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোসলের ভিডিও ধারণের দায়ে সালিসে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৯ Time View

গাজীপুরের শ্রীপুরে গোপনে এক নারী পোশাককর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণের দায়ে স্থানীয় সালিস বৈঠকে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো. নুরুজ্জামান (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। তিনি এক্সকেভেটরচালক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রঙিলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন নুরুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, একই বাড়িতে বসবাসরত এক নারী পোশাককর্মী গোসল করার সময় দেয়ালের ওপর দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী গোসলখানা থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা নুরুজ্জামানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।

এরপর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মীমাংসার নামে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক চলাকালে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে নুরুজ্জামানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে সবাই চলে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ভাড়াটিয়ারা তালা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সালিসের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মারধরের পর সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও নুরুজ্জামানকে একা ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ওই নারী পোশাককর্মী জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়। কীভাবে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

নিহতের ভাই কামাল হোসেন বলেছেন, “সালিসের নামে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আছে। যদি তারা নির্দোষ হতো, তাহলে পালিয়ে গেল কেন?”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নুরুজ্জামানের মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারধর ও শ্বাসরোধের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগঃ

গোসলের ভিডিও ধারণের দায়ে সালিসে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সময়ঃ ১২:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে গোপনে এক নারী পোশাককর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণের দায়ে স্থানীয় সালিস বৈঠকে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো. নুরুজ্জামান (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। তিনি এক্সকেভেটরচালক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রঙিলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন নুরুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, একই বাড়িতে বসবাসরত এক নারী পোশাককর্মী গোসল করার সময় দেয়ালের ওপর দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী গোসলখানা থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা নুরুজ্জামানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।

এরপর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মীমাংসার নামে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক চলাকালে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে নুরুজ্জামানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে সবাই চলে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ভাড়াটিয়ারা তালা খুলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সালিসের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মারধরের পর সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও নুরুজ্জামানকে একা ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ওই নারী পোশাককর্মী জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়। কীভাবে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

নিহতের ভাই কামাল হোসেন বলেছেন, “সালিসের নামে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আছে। যদি তারা নির্দোষ হতো, তাহলে পালিয়ে গেল কেন?”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নুরুজ্জামানের মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মারধর ও শ্বাসরোধের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।