০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মামলার বর্ণনা: বিমানের এমডির বাসায় গৃহকর্মী শিশুকে খুন্তির ছ্যাঁকা

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৫ Time View

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত ১১ বছরের এক মেয়ে শিশু। তাকে বিভিন্ন সময় মারধর এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো বলে মামলার বর্ণনায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‍“নিযাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক অভিযোগের সঙ্গে তথ্যের মিল পাওয়ায় শফিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।”

শফিকুর রহমান ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য তিনজনের মধ্যে একজন তার স্ত্রী বিথী (মামলায় এক শব্দের নাম ব্যবহার করা হয়েছে)। অন্য দুজন  হলেন, সুফিয়া (৫৫) ও রুপালি (৩৫)। এই দুজনও শফিকুরের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। 

উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার নাম গোলাম মোস্তফা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে (১১) গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বাসার এক শিশুকে দেখাশোনার কাজে দেন। বাসার মালিক বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে শিশুটির ভরণপোষণ ও বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে তাদের বাসায় কাজ দেন। 

গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুনে তিনি তার মেয়েকে শফিকুরের বাসায় রেখে যান। প্রথম দিকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করায় কোনো বাধা না থাকলেও গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে আর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না।

সর্বশেষ শনিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিথী ফোন করে জানান, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে তার বাসা থেকে নিয়ে যেতে হবে। সেদিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে মোস্তফার কাছে হস্তান্তর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগদগে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। ফলে চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার বিমানের এমডি শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং তাদের বাসার প্রাপ্তবয়স্ক অন্য দুজন নারী গৃহকর্মী।


চিকিৎসাধীন শিশুটির কথা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, শফিকুর রহমান এবং আরো দুজন কাজের মহিলা বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করতেন এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরে ছ্যাঁকা দিতেন। 

শিশুটির শারীরের আঘাতের চিহ্ন এবং তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা অনুযায়ী ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় শফিকুর ও তার স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গোলাম মোস্তফা।

মামলার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা এলাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

ট্যাগঃ

মামলার বর্ণনা: বিমানের এমডির বাসায় গৃহকর্মী শিশুকে খুন্তির ছ্যাঁকা

সময়ঃ ১২:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত ১১ বছরের এক মেয়ে শিশু। তাকে বিভিন্ন সময় মারধর এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো বলে মামলার বর্ণনায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‍“নিযাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক অভিযোগের সঙ্গে তথ্যের মিল পাওয়ায় শফিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।”

শফিকুর রহমান ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য তিনজনের মধ্যে একজন তার স্ত্রী বিথী (মামলায় এক শব্দের নাম ব্যবহার করা হয়েছে)। অন্য দুজন  হলেন, সুফিয়া (৫৫) ও রুপালি (৩৫)। এই দুজনও শফিকুরের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। 

উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার নাম গোলাম মোস্তফা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে (১১) গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বাসার এক শিশুকে দেখাশোনার কাজে দেন। বাসার মালিক বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে শিশুটির ভরণপোষণ ও বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে তাদের বাসায় কাজ দেন। 

গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুনে তিনি তার মেয়েকে শফিকুরের বাসায় রেখে যান। প্রথম দিকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করায় কোনো বাধা না থাকলেও গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে আর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না।

সর্বশেষ শনিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিথী ফোন করে জানান, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে তার বাসা থেকে নিয়ে যেতে হবে। সেদিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে মোস্তফার কাছে হস্তান্তর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগদগে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। ফলে চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার বিমানের এমডি শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং তাদের বাসার প্রাপ্তবয়স্ক অন্য দুজন নারী গৃহকর্মী।


চিকিৎসাধীন শিশুটির কথা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, শফিকুর রহমান এবং আরো দুজন কাজের মহিলা বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করতেন এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরে ছ্যাঁকা দিতেন। 

শিশুটির শারীরের আঘাতের চিহ্ন এবং তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা অনুযায়ী ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় শফিকুর ও তার স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গোলাম মোস্তফা।

মামলার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা এলাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।