গত ৫ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৪টার মধ্যে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্ট। একাধিক চেক ডিজঅনার মামলায় আগের দেওয়া ছাড় প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পন করেন ‘ভুল ভুলাইয়া’ তারকা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আত্মসমর্পন করে জেলে যাওয়ার আগে রাজপাল যাদব ফিল্মিবিটের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিনেতা তার আর্থিক সংকটের বিষয় ব্যাখ্যা করেন। রাজপাল যাদব বলেন, “স্যার, কী করব? আমার কাছে টাকা নেই। আর কোনো উপায়ও দেখতে পাচ্ছি না।”
রাজপাল যাদব যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তার চেহারা ও কণ্ঠস্বরে অসহায়ত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। এরপর এই প্রতিবেদক রাজপালের কাছে জানতে চান, চলচ্চিত্র জগতের ধনী বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নেন। যেমন: পরিচালক প্রিয়দর্শন রয়েছেন। আপনাকে নিয়ে বহু সিনেমা নির্মাণ করেছেন। প্রতি সিনেমার জন্য নাকি ২০ কোটি রুপির বেশি পারিশ্রমিক নেন। আপনি এদের কাছে কেন সাহায্য চাননি? জবাবে রাজপাল যাদব বলেন, “স্যার, এখানে আমরা সবাই একা। কোনো বন্ধু নেই। এই সংকট আমাকে একাই সামলাতে হবে।”
২০১০ সালে রাজপাল যাদব ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণ করেন। এটি তার নির্মিত প্রথম সিনেমা। এটি নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই।
ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে রাজপালের দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজপাল যাদব ও তার স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখেন।
পরবর্তীতে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর, ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত করেন। পাশাপাশি জানান, বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি রুপি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজপাল যাদব দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি মোট দায়ের তুলনায় খুবই সামান্য। এরপর গত ডিসেম্বরে ৪০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। পাশাপাশি জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি অর্থ শোধ করে দেবেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই পূরণ করতে ব্যর্থ হন রাজপাল।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি, রাজপাল যাদবের করা এক সপ্তাহের সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন; এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি, আদালতে হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির চেক এবং নতুন পরিশোধসূচি প্রস্তাব করেন। কিন্তু আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। সেদিন বিকেল ৪টায় রাজপাল যাদব তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন; ফলে তার ছয় মাসের সাজা কার্যকর হয়।
Voice24 Admin 









