০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে না যাওয়ায় শাস্তি হবে না বাংলাদেশের: আইসিসি

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪১ Time View

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশের চার ম্যাচ ছিল ভারতে। তিনটি কলকাতায় ও একটি মুম্বাই। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় বাংলাদেশ আইসিসিকে ভেন্যু সরানোর অনুরোধ করে। আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। বিসিবিও তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

আইনি কোনো পদক্ষেপেও যাওয়ার সুযোগ ছিল না বিসিবির। কারণ আইসিসিরি এই বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধ খারিজ হয়ে যায় সদস্যগুলোর ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজের ভোট বাদে মাত্র একটি দেশের ভোট পেয়েছে। মোট ১৬টি দেশের ভোটের ১৪টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে।

বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশের ক্রিকেট চিন্তায় ছিল ইন্টারন‌্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে কী সিদ্ধান্ত আসবে বাংলাদেশের জন‌্য। আর্থিক ক্ষতি, শাস্তি এরকম কিছুরই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আইসিসি সেসবে পথে হাঁটতে যাচ্ছে না। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলায় বিসিবিকে কোনো আর্থিক, ক্রিকেটীয় বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

গতকাল রাতে আইসিসি বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আইসিসির শর্ত পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশকে আইসিসির একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২১ সালেই চূড়ান্ত হয়ে আছে, ২০৩১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি ও পিসিবির একটি বৈঠক গতকাল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় বাংলাদেশকে শাস্তির খড়গ পেতে হবে না।

আইসিসি বলেছে, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ সম্পন্ন করেছে। আলোচনায় বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬, তবে শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না থাকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতি’ বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আইসিসি যোগ করে, ‘‘আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে ক্রিকেটের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মূল্যবান পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে,যাদের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাণবন্ত বাজারগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ২০ কোটিরও বেশি আবেগী ভক্ত রয়েছে, সেটির সমৃদ্ধির জন্য অব্যাহত সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে আইসিসি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় দেশটির ক্রিকেটের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না।”

শাস্তির বিষয়ে আইসিসির বার্তা, ‘‘বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবির ওপর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক, খেলা নিয়ে অথবা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে।’’

এছাড়া বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে জানিয়ে বলেছে, ‘‘সমঝোতার অংশ হিসেবে, ঐক্যমত্যে পৌঁছানো গেছে যে, আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং পরিচলনগত চাহিদা পূরণ সাপেক্ষে ২০৩১ বিশ্বকাপের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার উপর আস্থা প্রতিফলিত হচ্ছে এতে এবং দেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে সদস্যদের মধ্যে অর্থপূর্ণ আয়োজনের সুযোগ প্রদানের জন্য আইসিসির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করবে এটি।”

ট্যাগঃ

বিশ্বকাপে না যাওয়ায় শাস্তি হবে না বাংলাদেশের: আইসিসি

সময়ঃ ১২:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। গ্রুপ পর্বের বাংলাদেশের চার ম্যাচ ছিল ভারতে। তিনটি কলকাতায় ও একটি মুম্বাই। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় বাংলাদেশ আইসিসিকে ভেন্যু সরানোর অনুরোধ করে। আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। বিসিবিও তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

আইনি কোনো পদক্ষেপেও যাওয়ার সুযোগ ছিল না বিসিবির। কারণ আইসিসিরি এই বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধ খারিজ হয়ে যায় সদস্যগুলোর ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজের ভোট বাদে মাত্র একটি দেশের ভোট পেয়েছে। মোট ১৬টি দেশের ভোটের ১৪টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে।

বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশের ক্রিকেট চিন্তায় ছিল ইন্টারন‌্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে কী সিদ্ধান্ত আসবে বাংলাদেশের জন‌্য। আর্থিক ক্ষতি, শাস্তি এরকম কিছুরই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আইসিসি সেসবে পথে হাঁটতে যাচ্ছে না। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলায় বিসিবিকে কোনো আর্থিক, ক্রিকেটীয় বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

গতকাল রাতে আইসিসি বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আইসিসির শর্ত পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশকে আইসিসির একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২১ সালেই চূড়ান্ত হয়ে আছে, ২০৩১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি ও পিসিবির একটি বৈঠক গতকাল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় বাংলাদেশকে শাস্তির খড়গ পেতে হবে না।

আইসিসি বলেছে, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ সম্পন্ন করেছে। আলোচনায় বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬, তবে শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না থাকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতি’ বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আইসিসি যোগ করে, ‘‘আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে ক্রিকেটের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মূল্যবান পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে,যাদের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাণবন্ত বাজারগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ২০ কোটিরও বেশি আবেগী ভক্ত রয়েছে, সেটির সমৃদ্ধির জন্য অব্যাহত সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে আইসিসি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় দেশটির ক্রিকেটের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না।”

শাস্তির বিষয়ে আইসিসির বার্তা, ‘‘বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবির ওপর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক, খেলা নিয়ে অথবা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে।’’

এছাড়া বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে জানিয়ে বলেছে, ‘‘সমঝোতার অংশ হিসেবে, ঐক্যমত্যে পৌঁছানো গেছে যে, আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং পরিচলনগত চাহিদা পূরণ সাপেক্ষে ২০৩১ বিশ্বকাপের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার উপর আস্থা প্রতিফলিত হচ্ছে এতে এবং দেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে সদস্যদের মধ্যে অর্থপূর্ণ আয়োজনের সুযোগ প্রদানের জন্য আইসিসির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করবে এটি।”