০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনি আবহে কক্সবাজার সৈকত পর্যটকশূন্য 

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৫ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করা এবং পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন এবং এর আগে–পরে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এ ছাড়া আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অন্যান্য পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি জারি করা ইসির পরিপত্রে বলা হয়, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশেই বুকিং নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। কোথাও কোথাও তারকা হোটেলে ১০–১৫ শতাংশ রুম বুকিং থাকলেও সাধারণ হোটেলে বুকিং নেই বললেই চলে।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, নির্বাচন উপলক্ষে অনেকে ভোট দিতে যার যার এলাকায় ফিরছেন। হোটেল খাতের কর্মীরাও এর বাইরে নয়। নির্বাচন উপলক্ষে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটকদের ঘোরাফেরা সীমিত হয়েছে। তাই হোটেল-মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকত ফাঁকা রয়েছে। 

ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনি পরিস্থিতি বিবেচনায় হোটেল-মোটেলে বুকিং কমেছে। তারকা হোটেলে ১০–১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তাদের বেশির ভাগ বিদেশি নাগরিক। দেশীয় পর্যটক তেমন নেই। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনি আবহে পর্যটন জোনে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কিছু সংখ্যক পর্যটক ঘুরছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর থেকে সপরিবারে আসা এক পর্যটক বলেন, “দুদিন আগে কক্সবাজারে এসেছি। ভোটের একদিন পরই ফিরে যাব। আমাদের এক-দুইটা ভোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতেই চলে এসেছি।”

ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক রেহমান সাজিদ বলেন, “এই সময়ে কক্সবাজারে পর্যটক কম থাকবে এমনটা ভেবেই আসা। ভিড় কম থাকলে ভালোভাবে ‘এনজয়’ করা যায়। ভোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছি না। মনের মতো সময় কাটাতেই এসেছি।”

লাবণী পয়েন্টের চটপটি বিক্রেতা মো. আমান বলেন, “আমাদের দোকানগুলো মূলত দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। বেচাকেনা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

ঝিনুক ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “পর্যটক না থাকায় বিক্রি একেবারে নেই। তাই আপাতত দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছি। ভোটের পর যদি পর্যটক বাড়ে, তখন আবার দোকান খুলব।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ রয়েছে। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের সময় নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করা দৃষ্টিকটু। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা কাজ করছেন। ভোটের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। 

এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার শহরেও কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সেনা সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি লক্ষ্য করা গেছে। 
 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

নির্বাচনি আবহে কক্সবাজার সৈকত পর্যটকশূন্য 

সময়ঃ ১২:০২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করা এবং পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন এবং এর আগে–পরে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এ ছাড়া আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত অন্যান্য পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

সম্প্রতি জারি করা ইসির পরিপত্রে বলা হয়, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশেই বুকিং নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। কোথাও কোথাও তারকা হোটেলে ১০–১৫ শতাংশ রুম বুকিং থাকলেও সাধারণ হোটেলে বুকিং নেই বললেই চলে।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, নির্বাচন উপলক্ষে অনেকে ভোট দিতে যার যার এলাকায় ফিরছেন। হোটেল খাতের কর্মীরাও এর বাইরে নয়। নির্বাচন উপলক্ষে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটকদের ঘোরাফেরা সীমিত হয়েছে। তাই হোটেল-মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকত ফাঁকা রয়েছে। 

ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনি পরিস্থিতি বিবেচনায় হোটেল-মোটেলে বুকিং কমেছে। তারকা হোটেলে ১০–১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তাদের বেশির ভাগ বিদেশি নাগরিক। দেশীয় পর্যটক তেমন নেই। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনি আবহে পর্যটন জোনে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কিছু সংখ্যক পর্যটক ঘুরছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর থেকে সপরিবারে আসা এক পর্যটক বলেন, “দুদিন আগে কক্সবাজারে এসেছি। ভোটের একদিন পরই ফিরে যাব। আমাদের এক-দুইটা ভোটে বড় কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতেই চলে এসেছি।”

ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক রেহমান সাজিদ বলেন, “এই সময়ে কক্সবাজারে পর্যটক কম থাকবে এমনটা ভেবেই আসা। ভিড় কম থাকলে ভালোভাবে ‘এনজয়’ করা যায়। ভোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছি না। মনের মতো সময় কাটাতেই এসেছি।”

লাবণী পয়েন্টের চটপটি বিক্রেতা মো. আমান বলেন, “আমাদের দোকানগুলো মূলত দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ধস নেমেছে। বেচাকেনা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

ঝিনুক ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “পর্যটক না থাকায় বিক্রি একেবারে নেই। তাই আপাতত দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছি। ভোটের পর যদি পর্যটক বাড়ে, তখন আবার দোকান খুলব।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ রয়েছে। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের সময় নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করা দৃষ্টিকটু। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা কাজ করছেন। ভোটের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। 

এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার শহরেও কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সেনা সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি লক্ষ্য করা গেছে।