ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ। এরমধ্যে অন্যতম রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্তত হাফ ডজন বিএনপি নেতা প্রশাসক হওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। যারা ইতোমধ্যে দলের হাই কমান্ডে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে দুজন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা।
প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রাসিকের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি এর আগে সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। আলোচনায় আছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ মামুন। এছাড়াও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের নাম শোনা যাচ্ছে। তাছাড়াও আছেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, আবুল কালাম আজাদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। তারা প্রশাসক হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০০৮ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার মেয়র পদে নির্বাচন করেন। তিনি এ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন বুলবুল। ২০১৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের লিটনকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনি। তবে কারচুপির অভিযোগ এনে সেই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন বুলবুল।
বুলবুল ১৯৯১ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বুলবুল ২০১৩ সালে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও আছেন আলোচনায়। তিনি মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি হয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় তার পায়ে ছয়টি গুলি করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে প্রায় ২০ বছর তিনি পঙ্গু অবস্থায় আছেন।
মামুন বলেন, ‘‘দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ত্যাগ আর পরিশ্রম বিবেচনায় নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহল যোগ্য মনে করলে আমি দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। আমরা সবাই জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করি। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন অনেকে চেয়েছিল। কিন্তু যিনি পেয়েছেন, আমরা সবাই তার পক্ষ হয়ে কাজ করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।’’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল থেকে উঠে আসা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। ১৯৯০ সালে তিনি সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও কাউন্সিলের মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতিও। এরপর বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘নীতির্নির্ধারকরা ভালো জানেন এই পদে কে যোগ্য। আমিও চাই এই পদে সৎ ও নির্ভেজাল মানুষ আসুক। আমাকে এই পদ দিলে আমি প্রস্তুত। রাজশাহী মহানগরীকে ঢেলে সাজানো যাবে।’’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা। ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসাবে তিনি রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন রানা। তিনি বলেন, ‘‘মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রাজশাহী মহানগরীর মানুষ আমাকে চাইলে আমি দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক। তবে যেই পাক তার পক্ষেই থাকব।’’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনও প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী। তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন রিটন। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও কেন্দ্রের সহসভাপতি ছিলেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘‘আমিও রাজশাহী মহানগরবাসীর সেবা করতে চাই। বিএনপি হাইকমান্ড আমাকে যোগ্য মনে করলে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেবে।’’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আরেক সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট। নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতিও ছিলেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মহানগরবাসীর বিপুল ভোটে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমার ইচ্ছা, সবকিছু ঠিক থাকলে দল তাকেই সম্মানিত করুক। এরপর দল যদি আমাদের মতো তরুণদের নিয়ে ভাবে, তাহলেও আমি দায়িত্ব পালন করতে চাই।’’
নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের কঠিন সময়ে বিপদগ্রস্ত দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছিলেন যারা, তাদের প্রশাসক পদে মানায়। এছাড়াও দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে প্রশাসক করতে হবে।
Voice24 Admin 







