ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও চালকদের ভোগান্তি কমেনি। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রবিবার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চালকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। অনেকে ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়া প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।
স্থানীয় বাইক চালকরা বলেন, ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাননি। কখন পাবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। এতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকে তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।
তবে চালকদের দাবি, শুধু নিয়ম করলেই হবে না, সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।
Voice24 Admin 










