০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্জিন রুলস বাস্তবায়নে আরো ৩ মাস সময় চায় ডিবিএ

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৪ Time View

শেয়াবাজারে নতুন কার্যকর হওয়া ‘মার্জিন রুলস, ২০২৫’ বাস্তবায়নের সময়সীমা আরো তিন মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে এই আবেদন জানানো হয়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিবিএ জানায়, গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) রুলস, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। এই বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত প্রবর্তন করা হয়েছে। নতুন এ বিধিমালার শর্তগুলো নির্ধারিত সময়সীমা ছয় মাসের (৩০ এপ্রিল, ২০২৬) মধ্যে বাস্তবায়ন করা পর্যাপ্ত নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে ওই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

সময়সীমা বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডিবিএ জানায়, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, বোর্ড অনুমোদন এবং অপারেশনাল সিস্টেমে সংযুক্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউস এখনো নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, কারণ বিধিমালায় নির্ধারিত দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব এবং ক্লায়েন্টদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রিস্ক বেসড ক্যাপিটাল অ্যাডিকিউরি) রুলস, ২০১৯ এর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য বিধানের জন্য উল্লেখযোগ্য সিস্টেম উন্নয়ন, জনবল প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অপরিহার্য। তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়ন করলে অনাকাঙ্ক্ষিত অপারেশনাল ত্রুটি বা মার্জিন সেবায় সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে জানায় ডিবিএ।

ব্রোকারদের সংগঠনটি আরো জানায়, বিদ্যমান হাজার হাজার ঋণ হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মূল্যের অ-মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজ রয়েছে। ছয় মাসের সময়সীমা জোরপূর্বক বিক্রয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি এবং তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। তদুপরি, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকটজনিত কারণে বর্তমান পুঁজিবাজারের বিরূপ পরিস্থিতিতে এই বিধান বাস্তবায়ন করা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বাজারের বিদ্যমান চাপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক ও সময়োপযোগী রূপান্তর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই প্রেক্ষাপটে, মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা অতিরিক্ত তিন মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে এবং বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা ছাড়াই ধাপে ধাপে বিধিমালাটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে ডিবিএ।

গত বছরের ১২ আগস্ট ৯৬৭তম কমিশন সভায় শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্জিন রুলস, ২০২৫ এর খসড়া অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

ট্যাগঃ

মার্জিন রুলস বাস্তবায়নে আরো ৩ মাস সময় চায় ডিবিএ

সময়ঃ ১২:০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শেয়াবাজারে নতুন কার্যকর হওয়া ‘মার্জিন রুলস, ২০২৫’ বাস্তবায়নের সময়সীমা আরো তিন মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে এই আবেদন জানানো হয়।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিবিএ জানায়, গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) রুলস, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে। এই বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত প্রবর্তন করা হয়েছে। নতুন এ বিধিমালার শর্তগুলো নির্ধারিত সময়সীমা ছয় মাসের (৩০ এপ্রিল, ২০২৬) মধ্যে বাস্তবায়ন করা পর্যাপ্ত নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে ওই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

সময়সীমা বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডিবিএ জানায়, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, বোর্ড অনুমোদন এবং অপারেশনাল সিস্টেমে সংযুক্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউস এখনো নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, কারণ বিধিমালায় নির্ধারিত দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব এবং ক্লায়েন্টদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রিস্ক বেসড ক্যাপিটাল অ্যাডিকিউরি) রুলস, ২০১৯ এর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য বিধানের জন্য উল্লেখযোগ্য সিস্টেম উন্নয়ন, জনবল প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অপরিহার্য। তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়ন করলে অনাকাঙ্ক্ষিত অপারেশনাল ত্রুটি বা মার্জিন সেবায় সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে জানায় ডিবিএ।

ব্রোকারদের সংগঠনটি আরো জানায়, বিদ্যমান হাজার হাজার ঋণ হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মূল্যের অ-মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজ রয়েছে। ছয় মাসের সময়সীমা জোরপূর্বক বিক্রয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি এবং তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। তদুপরি, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকটজনিত কারণে বর্তমান পুঁজিবাজারের বিরূপ পরিস্থিতিতে এই বিধান বাস্তবায়ন করা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বাজারের বিদ্যমান চাপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক ও সময়োপযোগী রূপান্তর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এই প্রেক্ষাপটে, মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা অতিরিক্ত তিন মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে এবং বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা ছাড়াই ধাপে ধাপে বিধিমালাটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে ডিবিএ।

গত বছরের ১২ আগস্ট ৯৬৭তম কমিশন সভায় শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্জিন রুলস, ২০২৫ এর খসড়া অনুমোদন দেয় বিএসইসি।