০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশন করাসহ যা রয়েছে জাকিরের ইশতেহারে

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৫ Time View

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার নির্বাচনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহনের তিন দিন আগে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শহরের দিশা টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে এসে সুধীজনের উপস্থিতিতে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

ইশতেহারে কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নদীশাসন ও পরিবেশ রক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রকৌশলী জাকির। 

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহারে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়নের অংশ হিসেবে তরুণ ও বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সিড ফান্ড এবং জামানত ছাড়া সহজ ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। 

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রকৌশলী জাকিরের ইশতেহারে। শিক্ষা খাতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং এআইভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম চালুর কথা বলেছেন তিনি।

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ জাতীয়করণ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে নতুন ও যুগোপযোগী বিভাগ খোলার অঙ্গীকার করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির।

স্বাস্থ্য খাতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়ন, জরুরি সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রকৌশলী জাকিরের ইশতেহারে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া দৌলতপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। শহরের যানজট নিরসনে রেললাইন দক্ষিণে স্থানান্তর করে কুষ্টিয়া ইস্ট ও কুষ্টিয়া ওয়েস্ট নামে দুটি স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গড়াই নদীতে ঘোড়াঘাটে নতুন সেতু নির্মাণ ত্বরান্বিত করার কথাও বলা হয়েছে। 

ইশতেহারে গড়াই নদীর দুই তীরে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে শহর সম্প্রসারণ, কুষ্টিয়া শিলাইদহ সড়ক প্রশস্তকরণ, পদ্মা নদীতে নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নয়ন এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া- চুয়াডাঙ্গা সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। 

নদী শাসন ও পরিবেশ রক্ষায় গড়াই ও কালী নদী খনন, ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া কর্মসূচি জোরদার, শিল্পবর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইকেল প্ল্যান্ট স্থাপন এবং জিকে সেচ প্রকল্প সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। 

কুষ্টিয়ায় একটি নৌবন্দর স্থাপনের কথাও প্রকৌশলী জাকির তার ইশতেহারে তুলে ধরেছেন।

শিল্প উন্নয়নে কুষ্টিয়াকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ, খাজানগর অঞ্চলকে কৃষি শিল্পাঞ্চল ঘোষণা, ভাদালিয়ায় অটোমোবাইল শিল্প আধুনিকায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহৎ সিএসডি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর ইশতেহারে। 

বন্ধ মোহিনী মিল ও সুগার মিল বিষয়ে উন্মুক্ত গণশুনানি আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকৌশলী জাকির বলেছেন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার উন্নয়নে কুষ্টিয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায়, নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং আধুনিক ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

ট্যাগঃ

কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশন করাসহ যা রয়েছে জাকিরের ইশতেহারে

সময়ঃ ১২:০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার নির্বাচনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহনের তিন দিন আগে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শহরের দিশা টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে এসে সুধীজনের উপস্থিতিতে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

ইশতেহারে কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নদীশাসন ও পরিবেশ রক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রকৌশলী জাকির। 

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহারে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়নের অংশ হিসেবে তরুণ ও বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সিড ফান্ড এবং জামানত ছাড়া সহজ ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। 

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রকৌশলী জাকিরের ইশতেহারে। শিক্ষা খাতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং এআইভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম চালুর কথা বলেছেন তিনি।

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ জাতীয়করণ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে নতুন ও যুগোপযোগী বিভাগ খোলার অঙ্গীকার করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির।

স্বাস্থ্য খাতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়ন, জরুরি সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রকৌশলী জাকিরের ইশতেহারে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া দৌলতপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। শহরের যানজট নিরসনে রেললাইন দক্ষিণে স্থানান্তর করে কুষ্টিয়া ইস্ট ও কুষ্টিয়া ওয়েস্ট নামে দুটি স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গড়াই নদীতে ঘোড়াঘাটে নতুন সেতু নির্মাণ ত্বরান্বিত করার কথাও বলা হয়েছে। 

ইশতেহারে গড়াই নদীর দুই তীরে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে শহর সম্প্রসারণ, কুষ্টিয়া শিলাইদহ সড়ক প্রশস্তকরণ, পদ্মা নদীতে নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নয়ন এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া- চুয়াডাঙ্গা সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। 

নদী শাসন ও পরিবেশ রক্ষায় গড়াই ও কালী নদী খনন, ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া কর্মসূচি জোরদার, শিল্পবর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইকেল প্ল্যান্ট স্থাপন এবং জিকে সেচ প্রকল্প সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। 

কুষ্টিয়ায় একটি নৌবন্দর স্থাপনের কথাও প্রকৌশলী জাকির তার ইশতেহারে তুলে ধরেছেন।

শিল্প উন্নয়নে কুষ্টিয়াকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ, খাজানগর অঞ্চলকে কৃষি শিল্পাঞ্চল ঘোষণা, ভাদালিয়ায় অটোমোবাইল শিল্প আধুনিকায়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহৎ সিএসডি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর ইশতেহারে। 

বন্ধ মোহিনী মিল ও সুগার মিল বিষয়ে উন্মুক্ত গণশুনানি আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকৌশলী জাকির বলেছেন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার উন্নয়নে কুষ্টিয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায়, নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং আধুনিক ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।