০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৭ নাকি বগুড়া-৬, কোনটি ছাড়বেন তারেক রহমান

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৪ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ উভয় আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। 

তবে সংবিধান ও সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, একসঙ্গে দুই আসনের সংসদ-সদস্য থাকা যাবে না। ফলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাকে একটি আসন বেছে নিতে হবে।

নিজ জেলা বগুড়া-৬ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের সব কটিতে জয় নিয়ে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তিনি পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। অর্থাৎ রাজধানীর আসনে জয় এসেছে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে।

আইনি বাধ্যবাধকতা
সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না। একাধিক আসনে নির্বাচিত হলে ৩০ দিনের মধ্যে কোন আসনটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তা নাহলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত শপথ গ্রহণও করা যাবে না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, বর্তমানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো পাঁচটি আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০০৮ সালে তা কমিয়ে তিনটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়।

আসন ছেড়ে দিলে কী হবে?
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে তারেক রহমান যে আসনটি ছেড়ে দেবেন, সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপ-নির্বাচন হতে হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া একজন প্রার্থী দুটি আসনে জয়লাভ করেছেন।” তার কথায় ইঙ্গিত মেলে, দুই আসনের উপ-নির্বাচন একই দিনে করা হতে পারে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোন আসনটি ছাড়বেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা যদি হয়, তাহলে ঢাকা-১৭ আসনের জনপ্রতিনিধি ও দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তারেক রহমান।

অবশ্য ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, সে হিসাবে এই সিদ্ধান্তে আসতে আরো সময় পাবেন তারেক রহমান।

ট্যাগঃ

ঢাকা-১৭ নাকি বগুড়া-৬, কোনটি ছাড়বেন তারেক রহমান

সময়ঃ ১২:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ উভয় আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। 

তবে সংবিধান ও সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, একসঙ্গে দুই আসনের সংসদ-সদস্য থাকা যাবে না। ফলে গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাকে একটি আসন বেছে নিতে হবে।

নিজ জেলা বগুড়া-৬ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের সব কটিতে জয় নিয়ে তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তিনি পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। অর্থাৎ রাজধানীর আসনে জয় এসেছে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে।

আইনি বাধ্যবাধকতা
সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না। একাধিক আসনে নির্বাচিত হলে ৩০ দিনের মধ্যে কোন আসনটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তা নাহলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত শপথ গ্রহণও করা যাবে না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, বর্তমানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো পাঁচটি আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান যুক্ত হয়। পরে ২০০৮ সালে তা কমিয়ে তিনটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়।

আসন ছেড়ে দিলে কী হবে?
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে তারেক রহমান যে আসনটি ছেড়ে দেবেন, সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপ-নির্বাচন হতে হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া একজন প্রার্থী দুটি আসনে জয়লাভ করেছেন।” তার কথায় ইঙ্গিত মেলে, দুই আসনের উপ-নির্বাচন একই দিনে করা হতে পারে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোন আসনটি ছাড়বেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা যদি হয়, তাহলে ঢাকা-১৭ আসনের জনপ্রতিনিধি ও দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তারেক রহমান।

অবশ্য ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, সে হিসাবে এই সিদ্ধান্তে আসতে আরো সময় পাবেন তারেক রহমান।