০৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রল-সমালোচনায় ভাবনা নেই, জাতীয় দলই আমার ফোকাস: হাবিবুল বাশার

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪২ Time View

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সোমবার ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচক প্যানেল। আগের কমিটিতে থাকা হাসিবুল হোসেন জায়গা পেয়েছেন নতুন কমিটিতেও। নতুন মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরি। চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন। সময় ক্ষেপণ না করে আজই মিরপুরে হাজির হয়ে কাজ শুরু করেছেন হাবিবুল।  

সদ‌্য দায়িত্ব ছাড়া গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। গাজী আশরাফ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ৩১ মার্চ দায়িত্ব ছাড়বেন। হাবিবুল বাশার পহেলা এপ্রিল থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এর আগে আরো দুইটি বৈঠকে বসবেন তারা। শেষ দুই বছর কীভাবে কাজ হয়েছে তা বুঝে নেবেন। 

ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি। তার আগেই বড় দায়িত্ব পেয়ে আপ্লুত হাবিবুল। ক‌্যারিয়ারের অন‌্যতম বড় দিন হিসেবেই দিনটিকে দেখছেন তিনি। মিরপুরে গণমাধ‌্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার কথা শুনেছে রাইজিংবিডি, 

অভিনন্দন প্রধান নির্বাচক। নতুন দায়িত্ব সামনের পথ চলা কেমন হতে পারে? 
হাবিবুল বাশার: এক্সাইটেড ডেফিনেটলি। এই বছর তো বাংলাদেশ দলের অনেক খেলা, অনেক চ্যালেঞ্জেস। ওয়ার্ল্ডকাপ। সঙ্গে আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনেকগুলো। এবং সব বড় বড় দলের সঙ্গে। বড় সিরিজ। তাই ভালো করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিতভাবেই নির্বাচকদের কাজটা তো অনেক দায়িত্বের একটা জায়গা। আমি আশাবাদী। দেখা যাক কী হয়। ভালো কাজ করবো আশা করছি।

আপনার নির্বাচক প্যানেল নিয়ে কী বলবেন?
হাবিবুল বাশার:
অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভালো মিশ্রণ আছে এখানে। যারা এসেছেন নতুন এসেছেন। হাসিবুল হোসেন শান্ত তো আগে থেকেই কাজ করছিল। বাকি যে দুজন এসেছেন, নাঈম ইসলাম অনেক অভিজ্ঞ। জাতীয় দলে খেলেছেন এবং লম্বা সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন।

জাতীয় দল যখন আমরা তৈরি করি, আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করতে পারি, যারা খেলে তারা খুব ভিজিবল। তারা কি করছেন না করছেন আমরা সবাই জানি। ফলো আপ করা হয়। কিন্তু তাদের বাইরে যারা আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা খেলছেন তাদেরকে গভীরভাবে দেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় নাঈম অনেকদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। তার কাছে হয়তো খুব ভালো ইনপুট আমরা পেতে পারবো। এই বিষয়ে তার অভিজ্ঞতাটা অনেক। 

নাদিফ চৌধুরীর জুনিয়র লেভেলে কাজ করেছেন। ফার্স্ট ক্লাসে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন খেলোয়াড়টা কেমন করছেন এই ধারণাটা তারা খুব ভালো দিতে পারবেন। আমার মনে হয় এটা ইতিবাচক দিক। যারা এসছেন তারা ক্রিকেটের সাথেই আছেন, ক্রিকেট নিয়েই আছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে অনেকদিন কাজ করছেন। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিতভাবেই অনেক সাহায্য করবে।

আপনার ফোকাসটা শুরুতে কি থাকবে? 
হাবিবুল বাশার:
প্রথম টার্গেট আমরা যেন সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারি। এটা প্রাইমারি টার্গেট। কিন্তু এটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যেন ধারাবাহিক হই পারফরম্যান্সে। সেটা টিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে হোক কিংবা আমাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে হোক এটা একটা বড় ফোকাস থাকবে নিশ্চিতভাবে।

এ বছর অনেক খেলা, আমার মনে হয় একটা লম্বা গ্রুপ নিয়ে কাজ করতে হবে। ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ আছে। আমাদের খেলোয়াড়ের পুলটাও বাড়াতে হবে এবং সেটা যেন এমন হয় যে, খারাপ দিয়ে খারাপ রিপ্লেস না করতে পারে। যেন সবাই ভালো করে। এ রকম যদি আমরা ১৪-১৫ জনের স্কোয়াড হয় তারা বাইরে আছেন…এই গ্রুপটাকে নিয়ে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রুপটাকে যদি আমরা খুব ভালো মতো প্রস্তুত করতে পারি তাহলে আমাদের সমস্যা হবে না।

আমরা একেবারে পুরো শক্তি নিয়ে খেলি। এজন্য নতুন খেলোয়াড় আসছে না। একজন খারাপ খেললে আরেকজন এসে তাকে রিপ্লেস করে দেয়। আপনি আপনার নির্বাচক প্যানেলে একটা নতুন সংস্কৃতি তৈরি করবেন কিনা যেখানে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে?
হাবিবুল বাশার:
এখানে বেশ কিছু বিষয় আছে। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশ দল কিন্তু প্রতিনিয়ত জেতার জন্য খেলে। ওইখানে স্যাক্রিফাইস করার কিছু নেই। আপনি সবসময় যখন দলটা বানাবেন যেই দলটা জিততে পারবে তেমন দলটাই পাঠাবেন, বানাবেন। আর যখন আপনি ফিউচার চিন্তা করবেন, ফিউচার চিন্তা করলে কিছু কিছু খেলোয়াড়কে আপনার সামনে নিয়ে আসতে হবে। এবং সেই সামনে আনাটা ভালো হয় যখন বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে একজন-দুজন খেলোয়াড়কে নেবেন তখন তাদের সুবিধা হয়।

বিশ্বকাপের আগে যদি বর্তমান খেলোয়াড়দের কেউ অফফর্মে চলে গেল তখন নতুন কাউকে আনলে তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এই কাজগুলি অবশ্যই একটু আগে করে ফেললে ভালো। আমরা চাই না যে বিশ্বকাপে কোনো নতুন খেলোয়াড়কে নিয়ে চেষ্টা করতে। যদি কোন খেলোয়াড়কে চেষ্টা করতে হয়, এর মধ্যেই করবেন। কিন্তু দল জিতবে কি জিতবে না এরকম ভাবনা ভেবে স্যাক্রিফাইজিং করা যাবে না। 

২০২৭ ওয়ার্ল্ডকাপের আগে আপনার হাতে কী পর্যাপ্ত সময় আছে? একেবারে একটা ভালো একটা টেস্ট স্কোয়াড বানানো এবং সাথে একেবারে ব্যাকআপ কিছু খেলোয়াড়ও তৈরি করা?
হাবিবুল বাশার সুমন:
পর্যাপ্ত সময় না থাকলেও সেদিকে ফিরে তাকানোর কোন অবকাশ নেই। আমাদের যা করার এর মধ্যেই করতে হবে। আমাদের একটা সুবিধা যে ২০২৭ ওয়ার্ল্ডকাপের আগে আমরা প্রচুর খেলার সুযোগ পাবো। তাই দলটা প্রস্তুত হওয়ার জন্য অনেক সুযোগ পাবো, সময় পাবো।

আপনার জন্য কি নির্বাচক পদে ফেরা ‘রিটার্নিং ব্যাক হোম?’ 
হাবিবুল বাশার:
ক্রিকেট নিয়েই তো আছি। আমি যদিও নির্বাচক কমিটি থেকে বের হয়ে নারী ক্রিকেটে কাজ করেছি। তারপরে ডেভলপমেন্টে কাজ করছিলাম। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাচক পদেই ছিলাম। হ্যাঁ বলতে পারেন।
কিন্তু আমার পূর্বের যে কাজটা ছিল ডেভলপমেন্ট, সেখানে আমি খুব উপভোগ করছিলাম। আমাকে যখন এটার কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, তখন একটু সময় নিয়েছিলাম। এর পিছনে একটা বড় কারণ ছিল নিশ্চিতভাবেই একটা কাজ শুরু করেছি। ওই কাজটা আমি খুব উপভোগ করছিলাম এবং ওইখানে আসলে সৃষ্টির আনন্দ পাওয়া যায় ডেভলপমেন্টের ক্ষেত্রে। সেটা ছেড়ে আসতে হলে আমার একটু মানে চিন্তাভাবনা করতে হয়েছিল। তবে জাতীয় দলের অংশ হওয়া সব সময়ই অনেক বড় সম্মানের। 

যেহেতু ডেভেলাপমেন্ট বিভাগে কাজ করেছেন। এখন কাজটা আরো সহজ হওয়ার কথা। সঙ্গে অভিজজ্ঞাও বাড়ল?
হাবিবুল বাশার:
এই দুই বছরে আমি আরো ম্যাচিউর হয়েছি। যখন জাতীয় দলে কাজ করি তখন নির্বাচন নিয়েই কাজ করি, ঘরোয়া ক্রিকেট কেবল দেখি। কিন্তু ডেভলপমেন্ট প্রসেসে থাকি না। মানে ওই খেলোয়াড়টার ডেভেলাপ হয়ে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা হয় না। কিন্তু এবার আমি খুব ক্লোজলি কাজ করেছি।

আমি ব্যক্গিতভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের নির্বাচক শুধু ১৫ সদস্যের স্কোয়াড তৈরি করে দেয় না…বরং তারা আরো অনেক বড় কাজ করতে পারেন। যেমন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনটা করলে ভালো হয় সেটাও তারা ইনপুট দিতে পারেন। 
আমরা যখন শেষ সিলেকশন কমিটিতে ছিলাম তখন একটা ছোট কাজ করেছিলাম যেটা আলটিমেটলি কাজে দিয়েছিল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেটটা আমরা ঐ সময় চেষ্টা করেছিলাম যেন স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয় সেটার জন্য কিন্তু এখন দেখবেন পাইপলাইনে অনেক ফাস্ট বোলার পাওয়া যায়। এরকম ছোট ছোট ইনপুট আমার মনে হয় ন্যাশনাল সিলেক্টরদের দেওয়া উচিত। তাদের এই এই ক্ষেত্রটা থাকা উচিত। তারা যদি ফিল করে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন জায়গায় কাজ করতে। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে কাজ করে আসছি, আমিও কাজ করেছি। এই ইনপুটটা আমার মনে হয় সিলেক্টরদের দেওয়া উচিত এবং সেটা দিলে উন্নতি হয়, ভালো হয়। 

নির্বাচক হওয়া মানেই সমালোচনার শিকার হওয়া। ট্রল হওয়া। কতটুকু প্রস্তুত?
হাবিবুল বাশার:
একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস শেয়ার করি। প্রথম প্রস্তাবটা যখন পেলাম, কথাবার্তা শুরু হলো, আমার খুব পরিচিত একজন সাংবাদিক, পুরনো সাংবাদিক উনি একটা টেক্সট করেছিলেন যে, ‘‘ভাই, এরপরে আপনাকে নিয়ে আমি একটু ট্রল করবো, আপনাকে নিয়ে কিছু লেখবো, আপনি মাইন্ড করবেন না। আপনার সাথে সম্পর্কটা খুব ভালো ছিল। এখন হয়তো মাঝে মাঝে কিছু লেখা লিখবো কিংবা আপনার এগেইনস্টে কিছু যাবে। আপনার কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিলাম।’’

আমি এটা নিয়ে আসলে খুব বেশি চিন্তিত না কারণ এটা থাকবেই। আমার কাছে আসলে মূল কনসার্ন, টিমটা নিয়ে কাজ করা। আমি কারো লিখা থামাতে পারবো না কিংবা কারো ট্রল করাও থামাতে পারবো না এবং আমি এটা প্রত্যাশাও করি না। এটা আমার জন্য মূল ভাবনাও না।

আমরা কী নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাহসী ক্রিকেট খেলবো? যারা পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ পায়নি তাদের সুযোগ দেবেন কিনা?
হাবিবুল বাশার:
পাকিস্তান সিরিজ লিপু ভাইরা করেছিলেন। ওখানে আমার অংশগ্রহণ ছিল না। আমার কাজ হবে পহেলা এপ্রিল থেকে। তখন দেখা যাবে।

ট্যাগঃ

ট্রল-সমালোচনায় ভাবনা নেই, জাতীয় দলই আমার ফোকাস: হাবিবুল বাশার

সময়ঃ ১২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সোমবার ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচক প্যানেল। আগের কমিটিতে থাকা হাসিবুল হোসেন জায়গা পেয়েছেন নতুন কমিটিতেও। নতুন মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরি। চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন। সময় ক্ষেপণ না করে আজই মিরপুরে হাজির হয়ে কাজ শুরু করেছেন হাবিবুল।  

সদ‌্য দায়িত্ব ছাড়া গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। গাজী আশরাফ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ৩১ মার্চ দায়িত্ব ছাড়বেন। হাবিবুল বাশার পহেলা এপ্রিল থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এর আগে আরো দুইটি বৈঠকে বসবেন তারা। শেষ দুই বছর কীভাবে কাজ হয়েছে তা বুঝে নেবেন। 

ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি। তার আগেই বড় দায়িত্ব পেয়ে আপ্লুত হাবিবুল। ক‌্যারিয়ারের অন‌্যতম বড় দিন হিসেবেই দিনটিকে দেখছেন তিনি। মিরপুরে গণমাধ‌্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার কথা শুনেছে রাইজিংবিডি, 

অভিনন্দন প্রধান নির্বাচক। নতুন দায়িত্ব সামনের পথ চলা কেমন হতে পারে? 
হাবিবুল বাশার: এক্সাইটেড ডেফিনেটলি। এই বছর তো বাংলাদেশ দলের অনেক খেলা, অনেক চ্যালেঞ্জেস। ওয়ার্ল্ডকাপ। সঙ্গে আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনেকগুলো। এবং সব বড় বড় দলের সঙ্গে। বড় সিরিজ। তাই ভালো করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিতভাবেই নির্বাচকদের কাজটা তো অনেক দায়িত্বের একটা জায়গা। আমি আশাবাদী। দেখা যাক কী হয়। ভালো কাজ করবো আশা করছি।

আপনার নির্বাচক প্যানেল নিয়ে কী বলবেন?
হাবিবুল বাশার:
অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভালো মিশ্রণ আছে এখানে। যারা এসেছেন নতুন এসেছেন। হাসিবুল হোসেন শান্ত তো আগে থেকেই কাজ করছিল। বাকি যে দুজন এসেছেন, নাঈম ইসলাম অনেক অভিজ্ঞ। জাতীয় দলে খেলেছেন এবং লম্বা সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন।

জাতীয় দল যখন আমরা তৈরি করি, আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করতে পারি, যারা খেলে তারা খুব ভিজিবল। তারা কি করছেন না করছেন আমরা সবাই জানি। ফলো আপ করা হয়। কিন্তু তাদের বাইরে যারা আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা খেলছেন তাদেরকে গভীরভাবে দেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় নাঈম অনেকদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। তার কাছে হয়তো খুব ভালো ইনপুট আমরা পেতে পারবো। এই বিষয়ে তার অভিজ্ঞতাটা অনেক। 

নাদিফ চৌধুরীর জুনিয়র লেভেলে কাজ করেছেন। ফার্স্ট ক্লাসে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন খেলোয়াড়টা কেমন করছেন এই ধারণাটা তারা খুব ভালো দিতে পারবেন। আমার মনে হয় এটা ইতিবাচক দিক। যারা এসছেন তারা ক্রিকেটের সাথেই আছেন, ক্রিকেট নিয়েই আছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে অনেকদিন কাজ করছেন। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিতভাবেই অনেক সাহায্য করবে।

আপনার ফোকাসটা শুরুতে কি থাকবে? 
হাবিবুল বাশার:
প্রথম টার্গেট আমরা যেন সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারি। এটা প্রাইমারি টার্গেট। কিন্তু এটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যেন ধারাবাহিক হই পারফরম্যান্সে। সেটা টিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে হোক কিংবা আমাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে হোক এটা একটা বড় ফোকাস থাকবে নিশ্চিতভাবে।

এ বছর অনেক খেলা, আমার মনে হয় একটা লম্বা গ্রুপ নিয়ে কাজ করতে হবে। ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ আছে। আমাদের খেলোয়াড়ের পুলটাও বাড়াতে হবে এবং সেটা যেন এমন হয় যে, খারাপ দিয়ে খারাপ রিপ্লেস না করতে পারে। যেন সবাই ভালো করে। এ রকম যদি আমরা ১৪-১৫ জনের স্কোয়াড হয় তারা বাইরে আছেন…এই গ্রুপটাকে নিয়ে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রুপটাকে যদি আমরা খুব ভালো মতো প্রস্তুত করতে পারি তাহলে আমাদের সমস্যা হবে না।

আমরা একেবারে পুরো শক্তি নিয়ে খেলি। এজন্য নতুন খেলোয়াড় আসছে না। একজন খারাপ খেললে আরেকজন এসে তাকে রিপ্লেস করে দেয়। আপনি আপনার নির্বাচক প্যানেলে একটা নতুন সংস্কৃতি তৈরি করবেন কিনা যেখানে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে?
হাবিবুল বাশার:
এখানে বেশ কিছু বিষয় আছে। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশ দল কিন্তু প্রতিনিয়ত জেতার জন্য খেলে। ওইখানে স্যাক্রিফাইস করার কিছু নেই। আপনি সবসময় যখন দলটা বানাবেন যেই দলটা জিততে পারবে তেমন দলটাই পাঠাবেন, বানাবেন। আর যখন আপনি ফিউচার চিন্তা করবেন, ফিউচার চিন্তা করলে কিছু কিছু খেলোয়াড়কে আপনার সামনে নিয়ে আসতে হবে। এবং সেই সামনে আনাটা ভালো হয় যখন বর্তমান খেলোয়াড়দের সাথে একজন-দুজন খেলোয়াড়কে নেবেন তখন তাদের সুবিধা হয়।

বিশ্বকাপের আগে যদি বর্তমান খেলোয়াড়দের কেউ অফফর্মে চলে গেল তখন নতুন কাউকে আনলে তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এই কাজগুলি অবশ্যই একটু আগে করে ফেললে ভালো। আমরা চাই না যে বিশ্বকাপে কোনো নতুন খেলোয়াড়কে নিয়ে চেষ্টা করতে। যদি কোন খেলোয়াড়কে চেষ্টা করতে হয়, এর মধ্যেই করবেন। কিন্তু দল জিতবে কি জিতবে না এরকম ভাবনা ভেবে স্যাক্রিফাইজিং করা যাবে না। 

২০২৭ ওয়ার্ল্ডকাপের আগে আপনার হাতে কী পর্যাপ্ত সময় আছে? একেবারে একটা ভালো একটা টেস্ট স্কোয়াড বানানো এবং সাথে একেবারে ব্যাকআপ কিছু খেলোয়াড়ও তৈরি করা?
হাবিবুল বাশার সুমন:
পর্যাপ্ত সময় না থাকলেও সেদিকে ফিরে তাকানোর কোন অবকাশ নেই। আমাদের যা করার এর মধ্যেই করতে হবে। আমাদের একটা সুবিধা যে ২০২৭ ওয়ার্ল্ডকাপের আগে আমরা প্রচুর খেলার সুযোগ পাবো। তাই দলটা প্রস্তুত হওয়ার জন্য অনেক সুযোগ পাবো, সময় পাবো।

আপনার জন্য কি নির্বাচক পদে ফেরা ‘রিটার্নিং ব্যাক হোম?’ 
হাবিবুল বাশার:
ক্রিকেট নিয়েই তো আছি। আমি যদিও নির্বাচক কমিটি থেকে বের হয়ে নারী ক্রিকেটে কাজ করেছি। তারপরে ডেভলপমেন্টে কাজ করছিলাম। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাচক পদেই ছিলাম। হ্যাঁ বলতে পারেন।
কিন্তু আমার পূর্বের যে কাজটা ছিল ডেভলপমেন্ট, সেখানে আমি খুব উপভোগ করছিলাম। আমাকে যখন এটার কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, তখন একটু সময় নিয়েছিলাম। এর পিছনে একটা বড় কারণ ছিল নিশ্চিতভাবেই একটা কাজ শুরু করেছি। ওই কাজটা আমি খুব উপভোগ করছিলাম এবং ওইখানে আসলে সৃষ্টির আনন্দ পাওয়া যায় ডেভলপমেন্টের ক্ষেত্রে। সেটা ছেড়ে আসতে হলে আমার একটু মানে চিন্তাভাবনা করতে হয়েছিল। তবে জাতীয় দলের অংশ হওয়া সব সময়ই অনেক বড় সম্মানের। 

যেহেতু ডেভেলাপমেন্ট বিভাগে কাজ করেছেন। এখন কাজটা আরো সহজ হওয়ার কথা। সঙ্গে অভিজজ্ঞাও বাড়ল?
হাবিবুল বাশার:
এই দুই বছরে আমি আরো ম্যাচিউর হয়েছি। যখন জাতীয় দলে কাজ করি তখন নির্বাচন নিয়েই কাজ করি, ঘরোয়া ক্রিকেট কেবল দেখি। কিন্তু ডেভলপমেন্ট প্রসেসে থাকি না। মানে ওই খেলোয়াড়টার ডেভেলাপ হয়ে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা হয় না। কিন্তু এবার আমি খুব ক্লোজলি কাজ করেছি।

আমি ব্যক্গিতভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের নির্বাচক শুধু ১৫ সদস্যের স্কোয়াড তৈরি করে দেয় না…বরং তারা আরো অনেক বড় কাজ করতে পারেন। যেমন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনটা করলে ভালো হয় সেটাও তারা ইনপুট দিতে পারেন। 
আমরা যখন শেষ সিলেকশন কমিটিতে ছিলাম তখন একটা ছোট কাজ করেছিলাম যেটা আলটিমেটলি কাজে দিয়েছিল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেটটা আমরা ঐ সময় চেষ্টা করেছিলাম যেন স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয় সেটার জন্য কিন্তু এখন দেখবেন পাইপলাইনে অনেক ফাস্ট বোলার পাওয়া যায়। এরকম ছোট ছোট ইনপুট আমার মনে হয় ন্যাশনাল সিলেক্টরদের দেওয়া উচিত। তাদের এই এই ক্ষেত্রটা থাকা উচিত। তারা যদি ফিল করে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন জায়গায় কাজ করতে। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে কাজ করে আসছি, আমিও কাজ করেছি। এই ইনপুটটা আমার মনে হয় সিলেক্টরদের দেওয়া উচিত এবং সেটা দিলে উন্নতি হয়, ভালো হয়। 

নির্বাচক হওয়া মানেই সমালোচনার শিকার হওয়া। ট্রল হওয়া। কতটুকু প্রস্তুত?
হাবিবুল বাশার:
একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস শেয়ার করি। প্রথম প্রস্তাবটা যখন পেলাম, কথাবার্তা শুরু হলো, আমার খুব পরিচিত একজন সাংবাদিক, পুরনো সাংবাদিক উনি একটা টেক্সট করেছিলেন যে, ‘‘ভাই, এরপরে আপনাকে নিয়ে আমি একটু ট্রল করবো, আপনাকে নিয়ে কিছু লেখবো, আপনি মাইন্ড করবেন না। আপনার সাথে সম্পর্কটা খুব ভালো ছিল। এখন হয়তো মাঝে মাঝে কিছু লেখা লিখবো কিংবা আপনার এগেইনস্টে কিছু যাবে। আপনার কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিলাম।’’

আমি এটা নিয়ে আসলে খুব বেশি চিন্তিত না কারণ এটা থাকবেই। আমার কাছে আসলে মূল কনসার্ন, টিমটা নিয়ে কাজ করা। আমি কারো লিখা থামাতে পারবো না কিংবা কারো ট্রল করাও থামাতে পারবো না এবং আমি এটা প্রত্যাশাও করি না। এটা আমার জন্য মূল ভাবনাও না।

আমরা কী নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাহসী ক্রিকেট খেলবো? যারা পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ পায়নি তাদের সুযোগ দেবেন কিনা?
হাবিবুল বাশার:
পাকিস্তান সিরিজ লিপু ভাইরা করেছিলেন। ওখানে আমার অংশগ্রহণ ছিল না। আমার কাজ হবে পহেলা এপ্রিল থেকে। তখন দেখা যাবে।