০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে মার্কিন ‘উদ্ধত’ আচরণের বিরুদ্ধে ইরানের হুঁশিয়ারি

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৫৪৫ Time View

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌযানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ‘হঠকারিতা ও উদ্ধত আচরণের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে- যা সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখা- ইসমাইল বাঘাই বলেন: “…ষড়যন্ত্র এবং ‘হালকা থাপ্পড়’-এর মতো নির্বোধসুলভ অলঙ্কারিক শব্দ ব্যবহার করে সেই গভীর কলঙ্ক মুছে ফেলা যাবে না, যার জন্ম হয়েছে আত্মমুগ্ধতা, লোভ, বেপরোয়া ভুল হিসাব এবং আইনহীন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা থেকে।”

উল্লেখ্য, ‘হালকা থাপ্পড়’ শব্দগুচ্ছটি মূলত ট্রাম্পের আগের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প গত রাতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলাকে কেবল একটি ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

বাঘাই আরো সমালোচনা করে বলেন, “বিচ্ছিন্ন ও বিভ্রান্তিকর টুইটগুলো এখন আর বাস্তবতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।”

এর কিছুক্ষণ আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক কড়া বার্তায় আরাঘচি বলেন, “কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরান মাথানত করবে না।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মার্কিন এই আচরণ কি কেবলই কোনো সস্তা চাপের কৌশল, নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষ আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

আরাঘচি বলেন, “প্রতিবার যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র হঠকারী সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং তা উৎক্ষেপণের সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে ‘১২০ শতাংশে’ পৌঁছেছে। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি একটি মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট যুক্ত করেন, যেখানে বলা হয়েছে-সিআইএ দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের পরও ইরান আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্রশস্ত্র অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে আজ শুক্রবার নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রাতের হামলা-পাল্টা হামলার পর আজ আবারো দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারসের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা ধরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী তাদের বেসামরিক ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল যখন ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে ইরানের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের কাছ থেকে একটি জবাব পাওয়ার আশা করছেন তারা।

ট্যাগঃ

হরমুজে মার্কিন ‘উদ্ধত’ আচরণের বিরুদ্ধে ইরানের হুঁশিয়ারি

সময়ঃ ১২:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌযানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ‘হঠকারিতা ও উদ্ধত আচরণের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে- যা সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখা- ইসমাইল বাঘাই বলেন: “…ষড়যন্ত্র এবং ‘হালকা থাপ্পড়’-এর মতো নির্বোধসুলভ অলঙ্কারিক শব্দ ব্যবহার করে সেই গভীর কলঙ্ক মুছে ফেলা যাবে না, যার জন্ম হয়েছে আত্মমুগ্ধতা, লোভ, বেপরোয়া ভুল হিসাব এবং আইনহীন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা থেকে।”

উল্লেখ্য, ‘হালকা থাপ্পড়’ শব্দগুচ্ছটি মূলত ট্রাম্পের আগের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প গত রাতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলাকে কেবল একটি ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

বাঘাই আরো সমালোচনা করে বলেন, “বিচ্ছিন্ন ও বিভ্রান্তিকর টুইটগুলো এখন আর বাস্তবতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।”

এর কিছুক্ষণ আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক কড়া বার্তায় আরাঘচি বলেন, “কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরান মাথানত করবে না।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মার্কিন এই আচরণ কি কেবলই কোনো সস্তা চাপের কৌশল, নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষ আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

আরাঘচি বলেন, “প্রতিবার যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র হঠকারী সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং তা উৎক্ষেপণের সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে ‘১২০ শতাংশে’ পৌঁছেছে। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি একটি মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট যুক্ত করেন, যেখানে বলা হয়েছে-সিআইএ দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের পরও ইরান আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্রশস্ত্র অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে আজ শুক্রবার নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রাতের হামলা-পাল্টা হামলার পর আজ আবারো দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারসের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা ধরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী তাদের বেসামরিক ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল যখন ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে ইরানের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের কাছ থেকে একটি জবাব পাওয়ার আশা করছেন তারা।