সামুদ জাতি নবীর কাছে একটি কঠিন ও অলৌকিক মোজেজা দাবি করে বসে। তারা বলে, তিনি যদি সত্যিই আল্লাহর নবী হয়ে থাকেন, তবে যেন সামনের ওই বিশাল শক্ত পাথর খণ্ড থেকে একটি জীবন্ত, গর্ভবর্তী এবং বিশালাকৃতির শে-উট বা উষ্ট্রী বের করে দেখান।
নবী সালেহ আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সেই পাথর ফেটে এক বিশাল অলৌকিক উষ্ট্রী বের হয়ে আসে এবং সেটি একটি বাচ্চার জন্ম দেয়।
এই অলৌকিক নিদর্শন দেখার পর কিছু মানুষ ইমান আনলেও, অধিকাংশ লোক তাদের কুফর ও অহংকারে অবিচল থাকে। আল্লাহর নির্দেশে তাঁর জাতিকে সতর্ক করে দিয়ে নবী সালেহ বললেন, এই উষ্ট্রী আল্লাহর একটি বিশেষ পরীক্ষা।
উপত্যকার পানি পানের জন্য এই উটের জন্য একদিন এবং পুরো জাতির জন্য একদিন নির্ধারিত থাকবে। কেউ যেন এই উটের কোনো ক্ষতি না করে, অন্যথায় আল্লাহর দ্রুত ও কঠিন আজাব তাদের গ্রাস করবে।
কিন্তু অবাধ্য সামুদ জাতি অত্যন্ত ধৃষ্টতা দেখিয়ে আল্লাহর সেই পবিত্র উটটিকে হত্যা করে এবং তার বাচ্চাকে তাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, তারা নবীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল, পারলে তোমার আল্লাহর আজাব নিয়ে এসো। তাদের এই চূড়ান্ত সীমালঙ্ঘনের পর আল্লাহর ফয়সালা চলে আসে।
তিন দিন সময় দেওয়ার পর, গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও বিকট শব্দ এবং প্রচণ্ড ভূমিকম্প এসে পুরো সামুদ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়। পবিত্র কোরআনে সেই ভয়াবহ শাস্তির বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, “অতঃপর এক তীব্র ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল, ফলে তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে মরে রইল।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৭৮)
সেই শক্তিশালী ও দাম্ভিক সভ্যতার একজন মানুষও সেদিন বেঁচে থাকতে পারেনি। অলৌকিক ও সুউচ্চ যেসব পাথুরে প্রাসাদ নিয়ে তাদের অহংকারের শেষ ছিল না, সেগুলোই আজ ফাঁকা পড়ে থেকে মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিচার ও ক্ষমতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
Voice24 Admin 


