২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণসমাবেশে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘গত বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতা রাজপথে জীবনবাজি রেখে লড়াই ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। বৈষম্যমূলক সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে বুকে ধারণ করে প্রায় দেড় হাজার শহীদি আত্মদানে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে পারলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে এক বছরপূর্তিতে এসে আমরা দেখছি, বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটতে চলেছে।’
‘শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিপরীতে হাঁটছে। এখনও গণহত্যাকারীদের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও হয়নি। আহতদের চিকিৎসা ও নিহত-আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা দিশেহারা। নতুন কর্মসংস্থান তো হয়নি, বরঞ্চ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে নতুন নতুন বেকার হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে ’৪৭ কে প্রতিস্থাপন করতে মহলবিশেষ নানা কৌশল অবলম্বন করছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত ’৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি বাতিলের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নতুন বন্দোবস্তের নামে নব্য ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনকে প্রলম্বিত করে সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার জন্য ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অথচ নারী আসন ১০০ তে উন্নীত করে সরাসরি নির্বাচন এবং মৌলিক অধিকারগুলো আইনের মাধ্যমে বলবৎ করার উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান কাজ বিচার দৃশ্যমান ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা। কিন্তু এক বছরেও বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু, এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া, রাখাইনে করিডর প্রদান, তুরস্ককে অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া ও স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করায় জনগণের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধছে।’
‘মানুষ ভাবছে, ভারতীয়-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী বলয় থেকে কি দেশ আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বলয়ে চলে যাচ্ছে! আর নির্বাচনের দাবি করলে কারও কারও গায়ে জ্বর এসে যাচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদের দোসর ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন নির্বাচন ছাড়া নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ কী? নির্বাচন না দিয়ে ইউনূস সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে কীভাবে? ক্ষমতা পরিবর্তনের ৩টি পথ আছে—নির্বাচন, গণঅভ্যুত্থান ও সামরিক ক্যু। আমরা তাই নির্বাচন চাই।’
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ঢাকা নগরের সাধারণ সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নিখিল দাস। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে পল্টন, নূরহোসেন স্কোয়ার, গোলাপ শাহ মাজার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।