বিভিন্ন ধর্ম ও দর্শনের এই তুলনামূলক চিত্র আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়:
-
মুসলিম একে বলেন ‘ফিতরাত’: আল্লাহর দেওয়া স্বভাব।
-
খ্রিষ্টান একে বলেন ‘প্রাকৃতিক আইন’: হৃদয়ে লেখা বিধি।
-
বৌদ্ধ বা হিন্দুরা একে বলেন ‘ডার্মা’: মহাজাগতিক শৃঙ্খলা।
পরিভাষা ভিন্ন হলেও সবার উপসংহার এক—মানুষ মূলত দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান পৃথিবীতে আমরা যে চরম স্বার্থপরতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা দেখি, তা আসলে মানুষের মূল স্বভাব নয়, বরং এক ধরনের বিচ্যুতি। দান বা পরোপকার কোনো কষ্টকর ত্যাগ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠার একমাত্র পথ।
পৃথিবীর এই অদৃশ্য নিয়মটি কি কেবল আধ্যাত্মিক বা তাত্ত্বিক? আধুনিক বিজ্ঞান কি এর কোনো প্রমাণ পায়?
মজার বিষয় হলো, বর্তমানে স্নায়ুবিজ্ঞান বা নিউরোসায়েন্সও প্রমাণ করছে যে, মানুষ যখন অন্যকে সাহায্য করে, তখন তার মস্তিষ্কে এমন কিছু হরমোন (যেমন ডোপামিন বা অক্সিটোসিন) নিঃসৃত হয়, যা তাকে প্রশান্তি দেয়।
অর্থাৎ, আমাদের শরীর ও মন এমনভাবেই তৈরি যে, অন্যের জন্য কিছু করার মধ্যেই আমাদের প্রকৃত সুখ নিহিত। আগামীতে হয়তো দেখা যাবে, ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরাও সেই সত্যটিই খুঁজে পাচ্ছেন, যা শত শত বছর আগে ঐশী বাণী বা প্রাচীন দর্শনগুলো বলে গেছে।
Voice24 Admin 






