০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যাকডেটিংয়ে নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: এফআরসি

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪৩ Time View

প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ২৮ মার্চ ২০২৬  

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে পূর্বের তারিখ দিয়ে সই (ব্যাকডেটিং) করার করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এখন থেকে এ ধরনের কার্যক্রমকে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে এফআরসি।

নতুন নির্দেশনায় সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেটিং গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয় বরং এটি নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই তারিখের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, নিরীক্ষক প্রয়োজনীয় ও যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সইয়ের তারিখ পরিবর্তন বা কারসাজি করলে তা বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। এতে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এফআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মানদণ্ড (আইএসএ) অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিদ্যমান আইন ও মানদণ্ডেও এ ধরনের কোনো চর্চার অনুমোদন নেই।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন নিতে হবে। নিরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রতিবেদনে সই করতে হবে এবং সইয়ের তারিখ সেই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এছাড়া নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) ব্যবহার। নিরীক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড (ডিভিসি) সংগ্রহ করতে হবে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সইয়ের তিন দিনের মধ্যেই এই কোড সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে কোড নেওয়া যাবে, তবে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।

নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বা ব্যাকডেটিংয়ের মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্ডার, ১৯৭৩সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

ঢাকা/এনটি/এসবি

ট্যাগঃ

ব্যাকডেটিংয়ে নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: এফআরসি

সময়ঃ ১২:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ২৮ মার্চ ২০২৬  

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে পূর্বের তারিখ দিয়ে সই (ব্যাকডেটিং) করার করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এখন থেকে এ ধরনের কার্যক্রমকে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে এফআরসি।

নতুন নির্দেশনায় সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেটিং গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয় বরং এটি নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই তারিখের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, নিরীক্ষক প্রয়োজনীয় ও যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সইয়ের তারিখ পরিবর্তন বা কারসাজি করলে তা বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। এতে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এফআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মানদণ্ড (আইএসএ) অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিদ্যমান আইন ও মানদণ্ডেও এ ধরনের কোনো চর্চার অনুমোদন নেই।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন নিতে হবে। নিরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রতিবেদনে সই করতে হবে এবং সইয়ের তারিখ সেই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এছাড়া নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) ব্যবহার। নিরীক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড (ডিভিসি) সংগ্রহ করতে হবে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সইয়ের তিন দিনের মধ্যেই এই কোড সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে কোড নেওয়া যাবে, তবে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।

নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বা ব্যাকডেটিংয়ের মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচলিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্ডার, ১৯৭৩সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

ঢাকা/এনটি/এসবি