মানিকগঞ্জে সবজির আড়তে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। আড়তদার ও কৃষকদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
মানিকগঞ্জে জেলা শহরের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৫০-৫৫ টাকা এবং টমেটো ৫৫-৬০ টাকা দরে। এছাড়া শসা ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ২৮ টাকা এবং আলু ১৩ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি হিসেবে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও এ সব সবজির অধিকাংশের দাম ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে ছিল, যা এখন বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
খুচরা বাজারে দাম আরো কিছুটা বেশি। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের। প্রতিদিন দাম পরিবর্তন হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে তাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আড়তদার আব্দুল আলীম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে সবজি ক্ষেতের ফুল ও কচি ফল ঝরে গেছে, যার ফলে বাজারে চাহিদামত সবজি আসছে না।
বানিয়াজুড়ি এলাকার কৃষক রুস্তম আলী বলেন, আগে যে ক্ষেত থেকে প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি সবজি সংগ্রহ করা যেত, এখন তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সরবরাহে এই ঘাটতির কারণে প্রতিদিন দাম বাড়ছে।
ভাটবাউর আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াদ উদ্দিন আহমেদ রকি বলেন, প্রাকৃতিক কারণে আড়তে সরবরাহ কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে যাবে। সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়লেও তা ঠিক হয়ে যাবে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সামসুন্নবী তুলিপ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে সরবরাহে ঘাটতি পড়বে না। এতে কৃষকরা লাভবান হবে, ভোক্তাদের উপর চাপ কমবে। বাজারে সরবরাহে খুব বেশি ঘাটতি নেই, তারপরও দাম বেশি। দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি বাড়ানো উচিত। সবজির দামে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে এ দপ্তর থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাজারে সবজির অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Voice24 Admin 




