০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষুব্ধ চালক, বৈশ্বিক দাম কমলে কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৫৬১ Time View

চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একবার বাড়ার পর, জুনের শুরুতেই আবারো বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দুইবার তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নীলক্ষেত, শাহবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতে ঘুরে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ তারা।

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের পথের ‌বন্ধু ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আল আমিন হোসেন। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমি এক স্যারের গাড়ি চালাই। স্যার প্রতি সপ্তাহে তেলের জন্য একটা নির্দিষ্ট বাজেট দেন। কিন্তু মে মাসের পর থেকে সেই বাজেটে আর পুরো সপ্তাহ চলে না। এখন আবার দাম বাড়ায় স্যার বলছেন গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিতে। দরকার ছাড়া গাড়ি বের করা হবে না। আমার ভয় হচ্ছে, তেলের দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে তবে মালিকেরা গাড়ি চালানোই বন্ধ করে দেবে, আর আমাদের মতো চালকদের চাকরি চলে যাবে। তেলের দাম বাড়লে শুধু তেল বাড়ে না, বাজারের কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে চালের দামও বেড়ে যায়। আমরা চালকেরা এখন এক গোলকধাঁধায় পড়ে গেছি।”

রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়েছেন মোটরসাইকেল চালক আবু ইউসুফ। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “দেড় মাস আগে বাইকের তেলের পেছনে খরচ হতো ৩ হাজার টাকা। মে মাসে দাম বাড়ার পর সেটা গিয়ে ঠেকল সাড়ে ৩ হাজারে। জুনের শুরুতে আবার যে দাম বাড়াল, তাতে এখন মাসে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা শুধু তেলেই চলে যাবে! আমাদের বেতন তো দেড় মাসে দুইবার বাড়ে না, বরং জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে।”

রমনা পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নিয়েছেন অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক হুমায়ুন কবির। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমরা রাইড শেয়ার করে দিন এনে দিন খাই। এপ্রিল মাসে যখন তেলের দাম বাড়ল, তখন অ্যাপ কোম্পানিগুলো ভাড়ার রেট বাড়ায়নি। আমরা কাস্টমারদের সাথে প্রতিনিয়ত বক বক করে খ্যাপ মারি। এখন আবার তেলের দাম বাড়ল। দিনে যদি ১ হাজার টাকার তেল ভরি, তবে দিন শেষে জ্যাম ঠেলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০০ টাকাও বাড়ি নিয়ে যেতে পারি না। এই গরমে সারা দিন রাস্তায় খাটার পর যদি চাল-ডাল কেনার টাকাই না থাকে, তবে বাইক চালিয়ে লাভ কী?”

শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক এম এ মান্নান মজুমদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলে, “সরকার নির্ধারিত নতুন দাম তেল বিক্রি করছি। এখানে আমাদের হাত নেই। তবে অনেক বাইকাররা না বুঝে আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে।”

আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় সরকারকে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে সরকারও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি পরপর দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতি মাসেই মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। সরকারের অবস্থান হলো, একান্ত প্রয়োজন না হলে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হবে না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশে জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এই জ্বালানির পেছনে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমানোর জন্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।”

জ্বালানির দাম ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত নিরসন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে সরকারও দ্রুত সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি বলেন, “এটি একটি নির্বাচিত সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে।”

রবিবার (৩১ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানো সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। 

ট্যাগঃ

ক্ষুব্ধ চালক, বৈশ্বিক দাম কমলে কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সময়ঃ ১২:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একবার বাড়ার পর, জুনের শুরুতেই আবারো বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দুইবার তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নীলক্ষেত, শাহবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতে ঘুরে চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ তারা।

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের পথের ‌বন্ধু ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আল আমিন হোসেন। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমি এক স্যারের গাড়ি চালাই। স্যার প্রতি সপ্তাহে তেলের জন্য একটা নির্দিষ্ট বাজেট দেন। কিন্তু মে মাসের পর থেকে সেই বাজেটে আর পুরো সপ্তাহ চলে না। এখন আবার দাম বাড়ায় স্যার বলছেন গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিতে। দরকার ছাড়া গাড়ি বের করা হবে না। আমার ভয় হচ্ছে, তেলের দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে তবে মালিকেরা গাড়ি চালানোই বন্ধ করে দেবে, আর আমাদের মতো চালকদের চাকরি চলে যাবে। তেলের দাম বাড়লে শুধু তেল বাড়ে না, বাজারের কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে চালের দামও বেড়ে যায়। আমরা চালকেরা এখন এক গোলকধাঁধায় পড়ে গেছি।”

রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়েছেন মোটরসাইকেল চালক আবু ইউসুফ। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “দেড় মাস আগে বাইকের তেলের পেছনে খরচ হতো ৩ হাজার টাকা। মে মাসে দাম বাড়ার পর সেটা গিয়ে ঠেকল সাড়ে ৩ হাজারে। জুনের শুরুতে আবার যে দাম বাড়াল, তাতে এখন মাসে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা শুধু তেলেই চলে যাবে! আমাদের বেতন তো দেড় মাসে দুইবার বাড়ে না, বরং জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে।”

রমনা পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নিয়েছেন অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক হুমায়ুন কবির। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমরা রাইড শেয়ার করে দিন এনে দিন খাই। এপ্রিল মাসে যখন তেলের দাম বাড়ল, তখন অ্যাপ কোম্পানিগুলো ভাড়ার রেট বাড়ায়নি। আমরা কাস্টমারদের সাথে প্রতিনিয়ত বক বক করে খ্যাপ মারি। এখন আবার তেলের দাম বাড়ল। দিনে যদি ১ হাজার টাকার তেল ভরি, তবে দিন শেষে জ্যাম ঠেলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০০ টাকাও বাড়ি নিয়ে যেতে পারি না। এই গরমে সারা দিন রাস্তায় খাটার পর যদি চাল-ডাল কেনার টাকাই না থাকে, তবে বাইক চালিয়ে লাভ কী?”

শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক এম এ মান্নান মজুমদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলে, “সরকার নির্ধারিত নতুন দাম তেল বিক্রি করছি। এখানে আমাদের হাত নেই। তবে অনেক বাইকাররা না বুঝে আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে।”

আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় সরকারকে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে সরকারও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি পরপর দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতি মাসেই মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। সরকারের অবস্থান হলো, একান্ত প্রয়োজন না হলে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হবে না। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশে জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এই জ্বালানির পেছনে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমানোর জন্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।”

জ্বালানির দাম ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত নিরসন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে সরকারও দ্রুত সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি বলেন, “এটি একটি নির্বাচিত সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে।”

রবিবার (৩১ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানো সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে।