০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ অভ্যাসই কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বানিয়েছে বিশ্বের দ্রুততম তারকাদের একজন

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৫৪৩ Time View

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু তার দুর্দান্ত গতি ও ফিটনেসের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং অসাধারণ শৃঙ্খলা।

ফুটবল মাঠে যখন তিনি বল পায়ে দৌড় শুরু করেন, তখন দৃশ্যটা অনেকটা সিনেমার স্লো-মোশনের মতো মনে হয়। ডিফেন্ডাররা সামনে দাঁড়ান, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যেন তাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। তার গতি, ক্ষিপ্রতা এবং বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এমন এক সমন্বয় তৈরি করে, যা আধুনিক ফুটবলে খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা, বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এবং বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই ফরাসি তারকা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাকে শুধু একজন ফুটবলার নয়, বরং একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড হিসেবেও দেখা হয়। তবে তার অসাধারণ সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা।

প্রতিভার চেয়ে বড় তার পরিশ্রম

অনেকেই মনে করেন এমবাপ্পের গতি জন্মগত। বিষয়টি আংশিক সত্য। ছোটবেলা থেকেই তার শরীরে ছিল বিস্ফোরক গতি এবং অ্যাথলেটিক সক্ষমতা। কিন্তু সেই স্বাভাবিক প্রতিভাকে বিশ্বসেরার পর্যায়ে নিয়ে যেতে যে পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এমবাপ্পের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। কারণ একই ধরনের অনুশীলন দীর্ঘদিন করলে শরীর নতুন উন্নতির সুযোগ কম পায়। সাধারণত তার দিন শুরু হয় স্ট্রেচিং ও মোবিলিটি ওয়ার্ক দিয়ে। এরপর হালকা দৌড় বা সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে শরীর গরম করা হয়।

এরপর শুরু হয় গতি এবং চটপটে নড়াচড়ার বিশেষ অনুশীলন। শাটল রান, টি-ড্রিল, ল্যাডার ড্রিল, কোন ড্রিল এবং বক্স ড্রিলের মতো ব্যায়াম তাকে খুব দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। একজন ডিফেন্ডার যখন ভাবেন এমবাপ্পে একদিকে যাবেন, ঠিক তখনই তিনি অন্যদিকে চলে যান। এই দক্ষতার পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা এসব বিশেষ অনুশীলন।

গতি আসে শক্তিশালী পা থেকে

ফুটবলে শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই হয় না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ গতি অর্জনের ক্ষমতাও প্রয়োজন। এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তার লোয়ার বডি।

সপ্তাহে প্রায় পাঁচ দিন তিনি ওয়েট ট্রেনিং করেন। এর মধ্যে দুই দিন পুরোপুরি পায়ের পেশির জন্য নির্ধারিত থাকে। স্কোয়াট, ডেডলিফট, ওয়াকিং লাঞ্জ, বুলগেরিয়ান স্প্লিট স্কোয়াট, হিপ থ্রাস্ট এবং বক্স জাম্প তার নিয়মিত ব্যায়ামের অংশ।

এসব অনুশীলন শুধু পেশিকে শক্তিশালী করে না, বরং বিস্ফোরক শক্তি তৈরি করে। ফলে কয়েক ধাপের মধ্যেই তিনি এমন গতি তুলতে পারেন, যা বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদেরও বিপাকে ফেলে।

শক্তিশালী কোরই তার ভারসাম্যের ভিত্তি

মাঠে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, উচ্চ গতিতে দৌড়ানোর সময়ও তিনি খুব কমই ভারসাম্য হারান। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে তার কোর ট্রেনিং।
সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তিনি কোর বা শরীরের মধ্যভাগের পেশির জন্য আলাদা সময় দেন। প্ল্যাঙ্ক, সাইড প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, বাইসাইকেল ক্রাঞ্চ, সিজর কিক এবং হ্যাংগিং লেগ রেইজ তার পছন্দের ব্যায়ামগুলোর মধ্যে রয়েছে।

শক্তিশালী কোর তাকে শুধু দ্রুত দৌড়াতেই সাহায্য করে না, বরং প্রতিপক্ষের ধাক্কা সামলে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও সহায়তা করে।

দিনে ছয় বেলা খাবার

এমবাপ্পে বিশ্বাস করেন, একজন অ্যাথলেটের পারফরম্যান্সের বড় অংশ নির্ভর করে তার খাবারের ওপর।

তাই তার খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত পরিকল্পিত। সকালের নাস্তায় সাধারণত থাকে সেদ্ধ ডিম, অ্যাভোকাডো, বাদামের মাখন এবং পোরিজ। দুপুরে চিকেন বা টুনা র্যাপের সঙ্গে সালাদ। রাতের খাবারে থাকে মাছ কিংবা মুরগির মাংস, ব্রাউন রাইস এবং প্রচুর সবজি।
এর পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ফল, বাদাম এবং প্রোটিন শেক গ্রহণ করেন। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং মিনারেল পেয়ে থাকে।

কেন চিনি এড়িয়ে চলেন?

বিশ্বের প্রায় সব এলিট অ্যাথলেটের মতো এমবাপ্পেও অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন।

এর বদলে তিনি জটিল শর্করা গ্রহণ করেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করে। পাস্তা, হোল গ্রেইন, ফল এবং সবজি তার খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মজার বিষয় হলো, তার সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোর একটি হলো ইতালিয়ান পাস্তা কার্বোনারা। তবে পছন্দের খাবার হলেও সেটিও তিনি পরিমিত পরিমাণে খান এবং সামগ্রিক পুষ্টি পরিকল্পনার মধ্যেই রাখেন।

ঘুমকে তিনি প্রশিক্ষণের অংশ মনে করেন

অনেক অ্যাথলেট অনুশীলন নিয়ে যতটা সচেতন, ঘুম নিয়ে ততটা নন। এমবাপ্পে এই দলে পড়েন না।

তার মতে, ভালো ঘুম ছাড়া ভালো পারফরম্যান্স অসম্ভব। ঘুমের সময় শরীর পেশি পুনর্গঠন করে, শক্তি পুনরুদ্ধার করে এবং মস্তিষ্ককে পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত করে।
তাই ব্যস্ত মৌসুমেও তিনি ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করেন না। অনুশীলন, খাদ্যাভ্যাস এবং বিশ্রাম এই তিনটি বিষয়কে তিনি সমান গুরুত্ব দেন।

রিকাভারির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

আধুনিক ফুটবলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য রিকাভারি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমবাপ্পে নিয়মিত ক্রায়োথেরাপি, স্পোর্টস ম্যাসাজ এবং মোবিলিটি সেশনের সাহায্য নেন। ক্রায়োথেরাপিতে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা ব্যবহার করে পেশির ক্লান্তি এবং প্রদাহ কমানো হয়।

এই পদ্ধতিগুলো তাকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেকে আরও বদলাচ্ছেন এমবাপ্পে

মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপজয়ী, শতাধিক গোলের মালিক এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের একজন হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পে মনে করেন তার এখনও উন্নতির জায়গা আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধু গোল করা নয়, মাঠে আরও বেশি পরিশ্রমী এবং পরিপূর্ণ খেলোয়াড় হতে চান। বিশেষ করে ডিফেন্সিভ কাজ ও প্রেসিংয়ে নিজের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন তিনি।

এটাই সম্ভবত একজন মহান খেলোয়াড় এবং একজন কিংবদন্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। যারা নিজেদের অর্জনে সন্তুষ্ট হয়ে যান, তারা এক জায়গায় থেমে থাকেন। আর যারা প্রতিদিন আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করেন, তারাই ইতিহাস তৈরি করেন।
সাফল্যের আসল রহস্য

কিলিয়ান এমবাপ্পের গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রতিভা একজন মানুষকে শুরুটা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য ধরে রাখতে প্রয়োজন শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক জীবনযাপন।

তার গতি, শক্তি কিংবা গোল করার ক্ষমতা একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিজের সীমা অতিক্রম করার মানসিকতা তাকে আজকের এমবাপ্পে বানিয়েছে।

হয়তো এ কারণেই তিনি শুধু একজন বিশ্বমানের ফুটবলার নন; আধুনিক ক্রীড়াজগতের জন্য তিনি অধ্যবসায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উৎকর্ষের এক জীবন্ত উদাহরণ।

ট্যাগঃ

৫ অভ্যাসই কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বানিয়েছে বিশ্বের দ্রুততম তারকাদের একজন

সময়ঃ ১২:০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু তার দুর্দান্ত গতি ও ফিটনেসের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং অসাধারণ শৃঙ্খলা।

ফুটবল মাঠে যখন তিনি বল পায়ে দৌড় শুরু করেন, তখন দৃশ্যটা অনেকটা সিনেমার স্লো-মোশনের মতো মনে হয়। ডিফেন্ডাররা সামনে দাঁড়ান, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যেন তাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। তার গতি, ক্ষিপ্রতা এবং বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এমন এক সমন্বয় তৈরি করে, যা আধুনিক ফুটবলে খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা, বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এবং বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই ফরাসি তারকা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাকে শুধু একজন ফুটবলার নয়, বরং একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড হিসেবেও দেখা হয়। তবে তার অসাধারণ সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা।

প্রতিভার চেয়ে বড় তার পরিশ্রম

অনেকেই মনে করেন এমবাপ্পের গতি জন্মগত। বিষয়টি আংশিক সত্য। ছোটবেলা থেকেই তার শরীরে ছিল বিস্ফোরক গতি এবং অ্যাথলেটিক সক্ষমতা। কিন্তু সেই স্বাভাবিক প্রতিভাকে বিশ্বসেরার পর্যায়ে নিয়ে যেতে যে পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

এমবাপ্পের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। কারণ একই ধরনের অনুশীলন দীর্ঘদিন করলে শরীর নতুন উন্নতির সুযোগ কম পায়। সাধারণত তার দিন শুরু হয় স্ট্রেচিং ও মোবিলিটি ওয়ার্ক দিয়ে। এরপর হালকা দৌড় বা সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে শরীর গরম করা হয়।

এরপর শুরু হয় গতি এবং চটপটে নড়াচড়ার বিশেষ অনুশীলন। শাটল রান, টি-ড্রিল, ল্যাডার ড্রিল, কোন ড্রিল এবং বক্স ড্রিলের মতো ব্যায়াম তাকে খুব দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। একজন ডিফেন্ডার যখন ভাবেন এমবাপ্পে একদিকে যাবেন, ঠিক তখনই তিনি অন্যদিকে চলে যান। এই দক্ষতার পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা এসব বিশেষ অনুশীলন।

গতি আসে শক্তিশালী পা থেকে

ফুটবলে শুধু দ্রুত দৌড়াতে পারলেই হয় না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ গতি অর্জনের ক্ষমতাও প্রয়োজন। এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো তার লোয়ার বডি।

সপ্তাহে প্রায় পাঁচ দিন তিনি ওয়েট ট্রেনিং করেন। এর মধ্যে দুই দিন পুরোপুরি পায়ের পেশির জন্য নির্ধারিত থাকে। স্কোয়াট, ডেডলিফট, ওয়াকিং লাঞ্জ, বুলগেরিয়ান স্প্লিট স্কোয়াট, হিপ থ্রাস্ট এবং বক্স জাম্প তার নিয়মিত ব্যায়ামের অংশ।

এসব অনুশীলন শুধু পেশিকে শক্তিশালী করে না, বরং বিস্ফোরক শক্তি তৈরি করে। ফলে কয়েক ধাপের মধ্যেই তিনি এমন গতি তুলতে পারেন, যা বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদেরও বিপাকে ফেলে।

শক্তিশালী কোরই তার ভারসাম্যের ভিত্তি

মাঠে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, উচ্চ গতিতে দৌড়ানোর সময়ও তিনি খুব কমই ভারসাম্য হারান। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে তার কোর ট্রেনিং।
সপ্তাহে অন্তত তিন দিন তিনি কোর বা শরীরের মধ্যভাগের পেশির জন্য আলাদা সময় দেন। প্ল্যাঙ্ক, সাইড প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, বাইসাইকেল ক্রাঞ্চ, সিজর কিক এবং হ্যাংগিং লেগ রেইজ তার পছন্দের ব্যায়ামগুলোর মধ্যে রয়েছে।

শক্তিশালী কোর তাকে শুধু দ্রুত দৌড়াতেই সাহায্য করে না, বরং প্রতিপক্ষের ধাক্কা সামলে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও সহায়তা করে।

দিনে ছয় বেলা খাবার

এমবাপ্পে বিশ্বাস করেন, একজন অ্যাথলেটের পারফরম্যান্সের বড় অংশ নির্ভর করে তার খাবারের ওপর।

তাই তার খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত পরিকল্পিত। সকালের নাস্তায় সাধারণত থাকে সেদ্ধ ডিম, অ্যাভোকাডো, বাদামের মাখন এবং পোরিজ। দুপুরে চিকেন বা টুনা র্যাপের সঙ্গে সালাদ। রাতের খাবারে থাকে মাছ কিংবা মুরগির মাংস, ব্রাউন রাইস এবং প্রচুর সবজি।
এর পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ফল, বাদাম এবং প্রোটিন শেক গ্রহণ করেন। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং মিনারেল পেয়ে থাকে।

কেন চিনি এড়িয়ে চলেন?

বিশ্বের প্রায় সব এলিট অ্যাথলেটের মতো এমবাপ্পেও অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন।

এর বদলে তিনি জটিল শর্করা গ্রহণ করেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করে। পাস্তা, হোল গ্রেইন, ফল এবং সবজি তার খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মজার বিষয় হলো, তার সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোর একটি হলো ইতালিয়ান পাস্তা কার্বোনারা। তবে পছন্দের খাবার হলেও সেটিও তিনি পরিমিত পরিমাণে খান এবং সামগ্রিক পুষ্টি পরিকল্পনার মধ্যেই রাখেন।

ঘুমকে তিনি প্রশিক্ষণের অংশ মনে করেন

অনেক অ্যাথলেট অনুশীলন নিয়ে যতটা সচেতন, ঘুম নিয়ে ততটা নন। এমবাপ্পে এই দলে পড়েন না।

তার মতে, ভালো ঘুম ছাড়া ভালো পারফরম্যান্স অসম্ভব। ঘুমের সময় শরীর পেশি পুনর্গঠন করে, শক্তি পুনরুদ্ধার করে এবং মস্তিষ্ককে পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত করে।
তাই ব্যস্ত মৌসুমেও তিনি ঘুমের সঙ্গে কোনো আপস করেন না। অনুশীলন, খাদ্যাভ্যাস এবং বিশ্রাম এই তিনটি বিষয়কে তিনি সমান গুরুত্ব দেন।

রিকাভারির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

আধুনিক ফুটবলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য রিকাভারি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমবাপ্পে নিয়মিত ক্রায়োথেরাপি, স্পোর্টস ম্যাসাজ এবং মোবিলিটি সেশনের সাহায্য নেন। ক্রায়োথেরাপিতে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা ব্যবহার করে পেশির ক্লান্তি এবং প্রদাহ কমানো হয়।

এই পদ্ধতিগুলো তাকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেকে আরও বদলাচ্ছেন এমবাপ্পে

মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপজয়ী, শতাধিক গোলের মালিক এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের একজন হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পে মনে করেন তার এখনও উন্নতির জায়গা আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধু গোল করা নয়, মাঠে আরও বেশি পরিশ্রমী এবং পরিপূর্ণ খেলোয়াড় হতে চান। বিশেষ করে ডিফেন্সিভ কাজ ও প্রেসিংয়ে নিজের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন তিনি।

এটাই সম্ভবত একজন মহান খেলোয়াড় এবং একজন কিংবদন্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। যারা নিজেদের অর্জনে সন্তুষ্ট হয়ে যান, তারা এক জায়গায় থেমে থাকেন। আর যারা প্রতিদিন আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করেন, তারাই ইতিহাস তৈরি করেন।
সাফল্যের আসল রহস্য

কিলিয়ান এমবাপ্পের গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রতিভা একজন মানুষকে শুরুটা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য ধরে রাখতে প্রয়োজন শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক জীবনযাপন।

তার গতি, শক্তি কিংবা গোল করার ক্ষমতা একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিজের সীমা অতিক্রম করার মানসিকতা তাকে আজকের এমবাপ্পে বানিয়েছে।

হয়তো এ কারণেই তিনি শুধু একজন বিশ্বমানের ফুটবলার নন; আধুনিক ক্রীড়াজগতের জন্য তিনি অধ্যবসায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উৎকর্ষের এক জীবন্ত উদাহরণ।