০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি পদত্যাগ করব না: মমতা

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৫৫২ Time View

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) কালীঘাটের বাসভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

মমতা বলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করতে হবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি। আমি চেয়ারের কেয়ার করি না। আমি যাব না আর। আমি সব তথ্য প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি সিইও ও আরও-কে সব জানিয়েছি। অভিযোগ কাকেই বা করব। সবাই তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। আমাদের ১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছ।”

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও‘‌ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জিরা।

শুরুতেই মমতা বলেন, “১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনো ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?‌”

তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে কায়দা করেছে, প্রথম রাউন্ড কাউন্টিং হওয়ার সাথে সাথে দেখিয়ে দিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম , ওরা কিন্তু প্রথমে বিজেপির ট্যালি দিয়ে শুরু করবে। ভোটের কাউন্টি হয় ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড। প্রথম ২-৩ রাউন্ড ওরা গণনা করবে প্ল্যান করেই, যাতে ছেলেদের মনোবল ভেঙে যায়, বিজেপির গুণ্ডারা যেন সাহস পায়।”

তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, “আমাদের লড়াইটা বিজেপির সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে, যিনি কালো ইতিহাস তৈরি করেছেন। এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। মানুষের অধিকার লুট করেছেন, ইভিএম লুট করেছেন। ভোটের পর ইভিএমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চার্জ! কী করে সম্ভব? নির্বাচনের দুদিন আগে আমাদের লোকদের গ্রেপ্তার করল। সব জায়গায় তল্লাশি করল। আইসি, ওসি. এসডিও, ডিএম সব বদলে দিল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে খেলাটা খেলল। বিজেপি আর কমিশনের গট আপ সেটিং।”

মমতার অভিযোগ, “সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না, ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।”

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘“কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।”

মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, “আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে মমতা বলেন, “ইন্ডিয়া জোটকে আরো শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।”

তিনি বলেন, “‌বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।”
 

ট্যাগঃ

আমি পদত্যাগ করব না: মমতা

সময়ঃ ১২:০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) কালীঘাটের বাসভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

মমতা বলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে গিয়ে পদত্যাগ করতে হবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমরা হারিনি। আমি চেয়ারের কেয়ার করি না। আমি যাব না আর। আমি সব তথ্য প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি সিইও ও আরও-কে সব জানিয়েছি। অভিযোগ কাকেই বা করব। সবাই তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। আমাদের ১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছ।”

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও‘‌ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জিরা।

শুরুতেই মমতা বলেন, “১০০ আসন জোর করে লুট করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনো ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?‌”

তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে কায়দা করেছে, প্রথম রাউন্ড কাউন্টিং হওয়ার সাথে সাথে দেখিয়ে দিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম , ওরা কিন্তু প্রথমে বিজেপির ট্যালি দিয়ে শুরু করবে। ভোটের কাউন্টি হয় ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ড। প্রথম ২-৩ রাউন্ড ওরা গণনা করবে প্ল্যান করেই, যাতে ছেলেদের মনোবল ভেঙে যায়, বিজেপির গুণ্ডারা যেন সাহস পায়।”

তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, “আমাদের লড়াইটা বিজেপির সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে, যিনি কালো ইতিহাস তৈরি করেছেন। এই নির্বাচনে ভিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই। মানুষের অধিকার লুট করেছেন, ইভিএম লুট করেছেন। ভোটের পর ইভিএমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চার্জ! কী করে সম্ভব? নির্বাচনের দুদিন আগে আমাদের লোকদের গ্রেপ্তার করল। সব জায়গায় তল্লাশি করল। আইসি, ওসি. এসডিও, ডিএম সব বদলে দিল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে খেলাটা খেলল। বিজেপি আর কমিশনের গট আপ সেটিং।”

মমতার অভিযোগ, “সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না, ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।”

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘“কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।”

মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, “আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে মমতা বলেন, “ইন্ডিয়া জোটকে আরো শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।”

তিনি বলেন, “‌বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।”