০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কড়া নজরদারি, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলবে না

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫৪৫ Time View

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের নদীবন্দরগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার থেকে ঢাকার সদরঘাট, বরিশাল, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরসহ প্রধান ঘাটগুলোতে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সেজন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবার কড়া তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে জানানো হয়, ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলবে না। মাঝনদীতে যাত্রী ওঠানো, লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহন এবং জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভাড়ায় অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্টে জরিমানা এবং প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল করা হবে।

ডিজিটাল তালিকা বাধ্যতামূলক
ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এবার সেই পথ বন্ধ করতে প্রতিটি লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রীরা যাতে নিজেই ভাড়া যাচাই করতে পারেন, সেজন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম মূল্যে যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়া তালিকা টাঙানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা সহজে দেখে নিতে পারেন।

তিনি বলেন, “এক টাকাও অতিরিক্ত আদায় বরদাশত করা হবে না। ভাড়ায় অনিয়ম ধরা পড়লে মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসবে। প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল পর্যন্ত করা হবে।”

মাঝনদীতে ওঠা নিষেধ
এবার ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ অংশ নিতে পারবে না। বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছাড়পত্র না থাকলে ঘাট থেকেই লঞ্চ আটকে দেওয়া হবে। ঈদের আগের তিন দিন ও পরের সাত দিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “মাঝনদীতে যাত্রী ওঠানো মানে জীবনের ঝুঁকি। এবার কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল, জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

“লঞ্চের ছাদে যাত্রী তোলা এবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছাদে ওঠার সিঁড়িগুলো খুলে ফেলতে মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুয়া খেলার ওপর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ধরা পড়লে লঞ্চের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নিরাপত্তায় যৌথ বাহিনীর টহল
নৌবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টহল দল মোতায়েন থাকবে। ঢাকা সদরঘাট, গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলাসহ বেশ কয়েকটি ঘাটকে ‘উচ্চ নজরদারির এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ঘাটে অতিরিক্ত টহল, মোবাইল কোর্ট ও ফায়ার সার্ভিসের ভাসমান ইউনিট থাকবে।

প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম ৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঘাট এলাকায় কর্মীদের সুনির্দিষ্ট পোশাক ও আইডি কার্ড পরা বাধ্যতামূলক। মাস্টার, ড্রাইভারসহ লঞ্চের সব কর্মীকে নাম ট্যাগসহ ইউনিফর্ম পরতে হবে।

ইজারাদারদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হবে। অতিরিক্ত চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না।

যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যোগ
যাত্রী হয়রানি কমাতে ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন ফ্রি কুলি সার্ভিস ও ট্রলি সেবা দেওয়া হবে। বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ক্যাডেটদের মাধ্যমে হুইলচেয়ার সেবা থাকবে।

টার্মিনালে যাত্রী ছাউনি, পর্যাপ্ত চেয়ার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চলবে।

নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। পন্টুনে নিরাপদে ওঠানামার জন্য টার্মিনালের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি নিচু স্টেপ পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে লঞ্চের বোর্ডিং ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হয়েছে। টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, “যাত্রী সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ফেরি ও বিশেষ রুটের প্রস্তুতি
ঈদের সময় জরুরি পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে পাটুরিয়া, আরিচা, চাঁদপুর, ভোলা, লাহারহাট, চিলমারী ও ধাওয়াপাড়া ঘাটে ৪৬টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময় সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যের যানবাহন চলতে পারবে।

চাঁদপুর থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য ৬টি বেসরকারি লঞ্চ ও ২টি সরকারি স্টিমার বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি চিলমারী-রৌমারী রুটে ড্রেজিং শেষ হওয়ায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ঈদের যানজট কমাতে ৩০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো বাস দাঁড় করালে রেকার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে।

আবহাওয়া ও অভিযোগ ব্যবস্থা
ঈদের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দিতে বলা হয়েছে। যেকোনো অনিয়ম, হয়রানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যাত্রীরা সরাসরি জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “ঈদ যেন আনন্দ বয়ে আনে, দুর্ঘটনা নয়, এই লক্ষ্যেই সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

যাত্রীদের প্রতি নির্দেশনা
অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠবেন না। লঞ্চের ছাদে যাত্রী হয়ে উঠবেন না। তাড়াহুড়া করে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠবেন না। খারাপ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ভ্রমণ করবেন না। পথে দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিলে ছুটাছুটি করবেন না। পরিবার-পরিজনকে ঈদের ভিড় শুরু হওয়ার পূর্বেই আপনার গন্তব্যে পাঠিয়ে দিন। যাত্রাপথে অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না।

পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের থেকে সাবধান থাকবেন। জরুরি যোগযোগের জন্য হট লাইন নম্বরসমূহ: বিআইডব্লিউটিএ-১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩,  ফায়ার সার্ভিস-১০২, কোস্ট গার্ড-১৬১১১, নৌপুলিশ- ০১৭৬৯-৭০২২১৫।

ট্যাগঃ

কড়া নজরদারি, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলবে না

সময়ঃ ১২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের নদীবন্দরগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার থেকে ঢাকার সদরঘাট, বরিশাল, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরসহ প্রধান ঘাটগুলোতে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সেজন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবার কড়া তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে জানানো হয়, ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলবে না। মাঝনদীতে যাত্রী ওঠানো, লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহন এবং জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভাড়ায় অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্টে জরিমানা এবং প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল করা হবে।

ডিজিটাল তালিকা বাধ্যতামূলক
ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এবার সেই পথ বন্ধ করতে প্রতিটি লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রীরা যাতে নিজেই ভাড়া যাচাই করতে পারেন, সেজন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম মূল্যে যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়া তালিকা টাঙানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা সহজে দেখে নিতে পারেন।

তিনি বলেন, “এক টাকাও অতিরিক্ত আদায় বরদাশত করা হবে না। ভাড়ায় অনিয়ম ধরা পড়লে মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসবে। প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল পর্যন্ত করা হবে।”

মাঝনদীতে ওঠা নিষেধ
এবার ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ অংশ নিতে পারবে না। বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছাড়পত্র না থাকলে ঘাট থেকেই লঞ্চ আটকে দেওয়া হবে। ঈদের আগের তিন দিন ও পরের সাত দিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “মাঝনদীতে যাত্রী ওঠানো মানে জীবনের ঝুঁকি। এবার কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল, জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

“লঞ্চের ছাদে যাত্রী তোলা এবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছাদে ওঠার সিঁড়িগুলো খুলে ফেলতে মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুয়া খেলার ওপর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ধরা পড়লে লঞ্চের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নিরাপত্তায় যৌথ বাহিনীর টহল
নৌবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টহল দল মোতায়েন থাকবে। ঢাকা সদরঘাট, গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলাসহ বেশ কয়েকটি ঘাটকে ‘উচ্চ নজরদারির এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ঘাটে অতিরিক্ত টহল, মোবাইল কোর্ট ও ফায়ার সার্ভিসের ভাসমান ইউনিট থাকবে।

প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম ৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঘাট এলাকায় কর্মীদের সুনির্দিষ্ট পোশাক ও আইডি কার্ড পরা বাধ্যতামূলক। মাস্টার, ড্রাইভারসহ লঞ্চের সব কর্মীকে নাম ট্যাগসহ ইউনিফর্ম পরতে হবে।

ইজারাদারদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হবে। অতিরিক্ত চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না।

যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যোগ
যাত্রী হয়রানি কমাতে ঈদের আগে ৫ দিন ও পরে ৫ দিন ফ্রি কুলি সার্ভিস ও ট্রলি সেবা দেওয়া হবে। বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ক্যাডেটদের মাধ্যমে হুইলচেয়ার সেবা থাকবে।

টার্মিনালে যাত্রী ছাউনি, পর্যাপ্ত চেয়ার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চলবে।

নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। পন্টুনে নিরাপদে ওঠানামার জন্য টার্মিনালের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি নিচু স্টেপ পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে লঞ্চের বোর্ডিং ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হয়েছে। টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, “যাত্রী সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ফেরি ও বিশেষ রুটের প্রস্তুতি
ঈদের সময় জরুরি পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে পাটুরিয়া, আরিচা, চাঁদপুর, ভোলা, লাহারহাট, চিলমারী ও ধাওয়াপাড়া ঘাটে ৪৬টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময় সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যের যানবাহন চলতে পারবে।

চাঁদপুর থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য ৬টি বেসরকারি লঞ্চ ও ২টি সরকারি স্টিমার বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি চিলমারী-রৌমারী রুটে ড্রেজিং শেষ হওয়ায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ঈদের যানজট কমাতে ৩০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো বাস দাঁড় করালে রেকার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে।

আবহাওয়া ও অভিযোগ ব্যবস্থা
ঈদের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দিতে বলা হয়েছে। যেকোনো অনিয়ম, হয়রানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যাত্রীরা সরাসরি জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “ঈদ যেন আনন্দ বয়ে আনে, দুর্ঘটনা নয়, এই লক্ষ্যেই সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

যাত্রীদের প্রতি নির্দেশনা
অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠবেন না। লঞ্চের ছাদে যাত্রী হয়ে উঠবেন না। তাড়াহুড়া করে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠবেন না। খারাপ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ভ্রমণ করবেন না। পথে দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিলে ছুটাছুটি করবেন না। পরিবার-পরিজনকে ঈদের ভিড় শুরু হওয়ার পূর্বেই আপনার গন্তব্যে পাঠিয়ে দিন। যাত্রাপথে অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না।

পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীদের থেকে সাবধান থাকবেন। জরুরি যোগযোগের জন্য হট লাইন নম্বরসমূহ: বিআইডব্লিউটিএ-১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯, সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩,  ফায়ার সার্ভিস-১০২, কোস্ট গার্ড-১৬১১১, নৌপুলিশ- ০১৭৬৯-৭০২২১৫।