কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রকাশিত: ১৭:৫১, ৮ মে ২০২৬
একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন প্রেমিক যুগল। তবে, এই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তরুণীর পরিবার। থানায় অপহরণ মামলা করেন তরুণীর মা। বিষয়টি মীমাংসা করতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু, সেখানে উপস্থিত হয়েই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন প্রেমিক যুগল। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের সম্পর্কের স্বীকৃতি মিলবে না এবং বিচ্ছেদই তাদের নিয়তি। তবে, তরুণ-তরুণী বিচ্ছেদ মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এই আবেগঘন মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) একই উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২৭ এপ্রিল কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। পরে তরুণীর মা আজিরন বেগম রবিবার (৩ মে) রৌমারী থানায় অপহরণ মামলা করেন।
এর পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। অনেক চেষ্টার পর তাদেরকে আলাদা করা হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ মামলার পর অভিযান চালিয়ে মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেছেন, “অপহরণ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঢাকা/বাদশা/রফিক
Voice24 Admin 




