০৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াশিংটন-রোম সম্পর্ক মেরামতে মেলোনির মুখোমুখি রুবিও

  • Voice24 Admin
  • সময়ঃ ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫৪২ Time View

ইরান যুদ্ধ এবং পোপকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির দীর্ঘদিনের মিত্রতায় ফাটল ধরেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রোমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবারের (৮ এপ্রিল) এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মার্কো রুবিও বর্তমানে ইতালিতে দুই দিনের সফরে রয়েছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যে হলো- পোপ লিওর ওপর ট্রাম্পের নজিরবিহীন আক্রমণের পর ভ্যাটিকানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করা এবং একইসঙ্গে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধকে সমর্থন না দেওয়ায় ইতালির প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করা।

মেলোনি ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং নিজেকে ওয়াশিংটন ও ইতালির অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর (যাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো রাজনৈতিক মিল ছিল না) মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সুসম্পর্কে ফাটল ধরেছে। ইরান যুদ্ধ মেলোনিকে এক কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে- একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, অন্যদিকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইতালীয় জনগণের তীব্র ঘৃণা ও যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার আগে রুবিও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে দেখা করেন। তাজানি এই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ইউরোপের যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন এবং ইতালির যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রেরও ইউরোপ ও ইতালিকে প্রয়োজন।”

ধারণা করা হচ্ছে, মেলোনি এবং রুবিও পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক এবং কিউবা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

পোপের ওপর ট্রাম্পের আক্রমণ

ভ্যাটিকানে রুবিওর বৈঠকের ফলাফল জানতেও ইতালীয়রা খুবই আগ্রহী। পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য ক্যাথলিক প্রধান দেশ ইতালিতে সংবেদনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছে, যার ফলে মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

মেলোনির এই সমালোচনার জবাবে ট্রাম্পও কঠোর পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, মেলোনির সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প পরবর্তীতে ইতালি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করারও হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, গত মাসে ইতালি তাদের সিগোনেলা বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীকে অনুমতি দেয়নি। ইতালীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটন এই ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য রোমের কাছ থেকে কোনো পূর্বানুমতি নেয়নি।

মেলোনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন বৈশ্বিক নেতৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি পারমাণবিক উত্তেজনার ‘পাগলামি’ নিয়েও নিজের আশঙ্কার কথা জানান।

জরিপকারীরা বলছেন, আগামী বছর ইতালির জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির এই বৈরী সম্পর্ক ভোটারদের কাছে মেলোনির জন্য একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

ট্যাগঃ

ওয়াশিংটন-রোম সম্পর্ক মেরামতে মেলোনির মুখোমুখি রুবিও

সময়ঃ ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ এবং পোপকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির দীর্ঘদিনের মিত্রতায় ফাটল ধরেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রোমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবারের (৮ এপ্রিল) এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মার্কো রুবিও বর্তমানে ইতালিতে দুই দিনের সফরে রয়েছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যে হলো- পোপ লিওর ওপর ট্রাম্পের নজিরবিহীন আক্রমণের পর ভ্যাটিকানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করা এবং একইসঙ্গে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধকে সমর্থন না দেওয়ায় ইতালির প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করা।

মেলোনি ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং নিজেকে ওয়াশিংটন ও ইতালির অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর (যাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো রাজনৈতিক মিল ছিল না) মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সুসম্পর্কে ফাটল ধরেছে। ইরান যুদ্ধ মেলোনিকে এক কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে- একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, অন্যদিকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইতালীয় জনগণের তীব্র ঘৃণা ও যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার আগে রুবিও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে দেখা করেন। তাজানি এই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ইউরোপের যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন এবং ইতালির যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রেরও ইউরোপ ও ইতালিকে প্রয়োজন।”

ধারণা করা হচ্ছে, মেলোনি এবং রুবিও পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক এবং কিউবা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

পোপের ওপর ট্রাম্পের আক্রমণ

ভ্যাটিকানে রুবিওর বৈঠকের ফলাফল জানতেও ইতালীয়রা খুবই আগ্রহী। পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য ক্যাথলিক প্রধান দেশ ইতালিতে সংবেদনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছে, যার ফলে মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

মেলোনির এই সমালোচনার জবাবে ট্রাম্পও কঠোর পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, মেলোনির সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প পরবর্তীতে ইতালি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করারও হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, গত মাসে ইতালি তাদের সিগোনেলা বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীকে অনুমতি দেয়নি। ইতালীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটন এই ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য রোমের কাছ থেকে কোনো পূর্বানুমতি নেয়নি।

মেলোনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ মার্কিন বৈশ্বিক নেতৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি পারমাণবিক উত্তেজনার ‘পাগলামি’ নিয়েও নিজের আশঙ্কার কথা জানান।

জরিপকারীরা বলছেন, আগামী বছর ইতালির জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির এই বৈরী সম্পর্ক ভোটারদের কাছে মেলোনির জন্য একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।